আজ সারাদিন বৃষ্টি থাকবে

১০০ কিলোমিটার বেড়ে স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এর প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনার নিম্নাঞ্চলও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের উপকূলে ঢুকতে গিয়ে টানা চার ঘণ্টার বেশি সময় তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, স্থলভাগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এর বাতাসের গতি কমে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে যাবে। উত্তর পূর্ব দিকে সরে আজ সকালের আগে আবার পাবনা অঞ্চল দিয়ে উত্তর দিকে চলে যাবে। স্থলভাগের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আম্পান স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে যাবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বলেছে, আম্পানের প্রভাবে আজ দেশের বেশির ভাগ স্থানে বৃষ্টি হবে। সাগর উত্তাল থাকবে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ এর উপকূলীয় অঞ্চলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত তুলে নেওয়া হবে না। শুক্রবার থেকে রোদেলা আবহাওয়ার দেখা মিলতে পারে।

অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি কেড়ে নিয়েছে ছয়জনের প্রাণ। নিহতদের মধ্যে পিরোজপুরে একজন, পটুয়াখালীর দুজন, ভোলার দুজন ও সাতক্ষীরার একজন। ঘূর্ণিঝড় আম্পান এখন ১৪৮ কিলোমিটার বেগে সাতক্ষীরা শহর অতিক্রম করছে। আম্পানের প্রভাবে জেলায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে ভারতের কলকাতায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গে এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। এতে কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর।

হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অবস্থাও ভয়াবহ। হাজার হাজার কাঁচাবাড়ি এবং গাছপালা ভাঙার খবর আসছে এই সব জেলা থেকে। তবে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এর অনেক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আম্পান চলে গেলেও এর রেশ থেকে যাবে অন্তত একদিন। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সারাদিন পশ্চিমবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি চলবে। রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হবে উত্তরবঙ্গে।

রাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর এক অধিকর্তা জানান, আজ সকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় তার সাইক্লোন স্ট্যাটাস ধরে থাকবে। তাণ্ডব চলবে। ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্ব দিকে বাংলাদেশে যাবে সেটি। অতিগভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হবে বাংলাদেশে। এর ফলে সারাদিন বৃষ্টি থাকবে। শুক্রবার থেকে পরিচ্ছন্ন আকাশ দেখা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *