সরেজমিন নিউজ

লাইফস্টাইল

কাজের টেবিলে এক টুকরো প্রকৃতি: বায়োফিলিক ওয়ার্কস্পেস বাড়াচ্ছে মানসিক প্রশান্তি ও কর্মদক্ষতা

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় কাজের টেবিলে বসে থাকা এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা যেন এক প্রতিদিনের বাধ্যতামূলক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। এই কর্মব্যস্ততার মাঝে তৈরি হওয়া মানসিক স্ট্রেস ও একঘেয়েমি দূর করতে বিশ্বব্যাপী দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে 'বায়োফিলিক ওয়ার্কস্পেস' (Biophilic Workspace) কনসেপ্ট।সহজ কথায়, এটি হলো কর্মক্ষেত্রে বা পড়ার টেবিলে প্রকৃতির ছোঁয়া বজায় রাখা। কাজের টেবিল বা ঘরের ছোট একটি কোণে কয়েকটি সতেজ ইনডোর প্ল্যান্ট সাজিয়ে নেওয়ার এই সংস্কৃতি এখন কেবল দৃষ্টিনন্দন ডেকোরেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং সুস্থ জীবনধারা ও প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে এটিকে এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।"কাজের টেবিলে একটি ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা কেবল পরিবেশ সুন্দর করে না, মানুষের কাজের মনোযোগ এবং সৃজনশীলতা অন্তত ১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।"গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা আবদ্ধ পরিবেশে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করলে মানুষের মস্তিষ্কে দ্রুত ক্লান্তি নেমে আসে। কর্মক্ষেত্রের আশপাশে জীবন্ত উদ্ভিদের উপস্থিতি চোখের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।সহজে যত্ন নেওয়ার মতো ৩টি ইনডোর প্ল্যান্ট:স্নেক প্ল্যান্ট (Snake Plant): অল্প আলো ও কম পানিতে বাঁচে। এটি রাতেও অক্সিজেন নির্গমন করে।মানি প্ল্যান্ট (Pothos): টেবিলের কোণে রেখে দিলে অল্প পরিশ্রমে ঘরের নান্দনিকতা বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়।জিজে প্ল্যান্ট (ZZ Plant): সপ্তাহে মাত্র একদিন পানি দিলেই সুন্দর থাকে, যা ব্যস্ত মানুষদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।ব্যস্ত লাইফস্টাইলে প্রতিদিন প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে আসার সুযোগ অনেকেরই হয়ে ওঠে না। তাই কাজের টেবিলে টবে একটি ছোট সবুজ গাছ রেখে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার এই সহজ প্রচেষ্টা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এনে দিতে পারে এক অবিশ্বাস্য প্রশান্তি।

কাজের টেবিলে এক টুকরো প্রকৃতি: বায়োফিলিক ওয়ার্কস্পেস বাড়াচ্ছে মানসিক প্রশান্তি ও কর্মদক্ষতা