হায়-রে মানবতা, হায়-রে মানবাধিকার, কোথায় খুঁজবো তোমায়!

এম. এ. রশিদ :


মানুষ মানুষের জন্য; জীবন জীবনের জন্য-
ভূপেন হাজরিকা- কথাটি সত্যি চিরস্মরণীয়।

আমরা সবাই জানি যার মধ্যে মনুষ্যত্ব থাকবে সেইতো মানুষ। মানবতা বা মনুষ্যত্ব যা একটি মানুষ হওয়ার প্রথম গুণ। সেটি দিনদিন মানুষের মাঝ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, সত্যিই কি আমরা মানুষ? নিজেদের মানুষ ভাবতে আজ বড় কষ্ট হয়।
পৃথিবীতে মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য মানবাধিকার সংগঠনের অভাব নেই। মানবাধিকার বলতেই তো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকারকে বোঝায়। আর মানবতা বলতেতো বুঝি নিঃস্বার্থ। বতর্মানে মানবকল্যাণ, মানবসেবা, মানবাধিকার নামে যে সংগঠনগুলো চারদিক দিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গ্রামে-শহরে ভাসমান- নীতি নৈতিকতা অনুযায়ী কাজ করে কিনা ভাবার বিষয়। প্রত্যক্ষভাবে নিজস্ব কোনো স্বার্থ না থাকলেও পরোক্ষভাবে রয়েছে নানান ধরনের স্বার্থ। মানবতার নামে মানবকল্যাণ মুখি কার্যক্রম অধিকাংশেই ব্যক্তি বা ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানের নামে প্রচার প্রসারেই সবার দৃস্টি আর্কষন করা। এটি কোনোভাবেই মানবতা হতে পারে না।
অর্থ ও ক্ষমতার বলে বিক্রি হচ্ছে আইন ও মানবতা- সরকারি লাইসেন্স নিবন্ধিত অনেক মানবাধিকার সংস্থা দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিটি গঠন করে নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে তাদের খুশিমতো কাযর্ক্রম। দেশ ও বিদেশ থেকে আসা অর্থ ও সাহায্য কতটা দরিদ্র মানুষের নিকট পোঁছাচ্ছে।
সমাজকে অযথা দোষারোপ করে লাভ কি? নোংরা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী এক শ্রেণির মানুষের বিবেকবোধ, মানসিকতা, নৈতিকতাবোধ।
তবে এটাও সত্য যে কিছু মানুষ আছে নিজেকে আড়াল করে গোপনে সাহায্য সহযোগিতা করার স্বাদ দুর থেকেই উপভোগ করে। তারা বাস্তবতার মানবপ্রেমী, মানবতার ফেরিওয়ালা- সংকটময় সময় সবর্ত্র প্রস্তুত থাকে। আর কিছু মানবতা ও মানবাধিকার সংগঠন দেশ-বিদেশ থেকে আসা সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে নিজেকে প্রচার প্রসার করায় ব্যস্ত। তাদের মুখে হাজারো মানবতাবাদী কথা থাকলেও অন্তরে থাকে জঘন্যতম কিছু গোছালো মানবতাবিরোধী পরিকল্পনা। যা তারা সুযোগ বুঝে যথার্থ স্থানে প্রয়োগ করে থাকে। যখনি মহামারি সংকট আসে! তখনি ঠিক লোক দেখানো অভিনয়টা ভালোই চালিয়ে যেতে পারে- আবেগ প্রবণভাবে মানুষের কাছে যাওয়া এবাং সর্বস্থানেই তারা সময়বুঝে সংগঠন কে কাজে লাগিয়ে মানবতাপ্রেমী হিসেবে সমাজের সামনে নিজেকে পরিচিত লাভ করার। হায়রে মানুষের মানবিকতা- কোথায় তোমার মানবতা! অর্থ-অস্বচ্ছ ক্ষমতার কাছে সকল কিছু হেরে যেতে শিখেছে; সেখানে মানবতা কিভাবে রেহাই পাবে? তবে সত্যি প্রকৃত মানবাধিকার-মানবতাপ্রেমী ও সমাজসেবক চিহ্নিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
ইচ্ছে’আজ জেগে উঠার-মহামারি এই লগ্নে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। মানবতা আজ লুন্ঠিত, মানবতা আজ মুমূর্ষ। মানবতা আজ রুগ্ন অবস্থায়- মানবতা আজ অশ্রুজলে ভাসছে- তাই সত্যের দৃঢ় প্রত্যয়ে একমাত্র প্রশাসনকেই ওই সকল সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে- যারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া মানবধিকার সংস্থার নাম করে মানবতা ভঙ্গ করে। সেই সকল সংগঠনগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলেই আমরা প্রকৃত মানবতাপ্রেমী চিহ্নিত করতে পারবো।
সকলের তরে, সকলি আমরা একতায়।।
লেখক:
এম. এ. রশিদ, গণমাধ্যমকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *