১ মাসের বেতন পুরোটাই দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দিলে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রুবেল

আনিচুর রহমান, ফরিদপুর : মানুষ মানুষের জন্য করোনার প্রাদুর্ভাবে এমন প্রবাদ বাক্যেও সত্যিটা বারবার প্রমান হলো। যখস নারা বিশ্ব করোনার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত তখন সবাই এর থেকে পরিত্রান পেতে আটকে পড়েছে নিজ ঘরে। লকডাউনের এই দূ:সময়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দেখা দিচ্ছে খাদ্যাভাব। এ সময় সমাজে বিভিন্ন স্তর থেকে মানুষ এগিয়ে এসেছে সবার পাশে তার সহযোগীর হাত বাড়িয়ে দিতে। ফরিদপুর জেলাশহরের কানাইপুর ফুরসা গ্রামের সন্তান রুবেল আহম্মেদ পেশায় একজন সিভিল ইন্জিনিয়ার। তার বেতনের ১ মাসের পুরো টাকাটাই তিনি অসহায় , কর্মহীন হয়ে পড়া কুজুরদিয়া, গোঁড়া দাহ, ঝটার কান্দি,ফুরসা, হলুদবারিয়া, ও শোলাকুন্ডু গ্রামের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার কিনে বিলিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার রুবেল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সত্যিই এ এক অসাধারণ অনুভূতি! সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার অভ্যাস আমার অনেক দিনের। কিন্তু নিজের পূর্ণ এক মাসের বেতন বোনাসের সমস্তটাই খরচ করে প্রতিবেশী, পরিচিত অপরিচিত একশত টি পরিবারের জন্য খাবার ও নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করে এক অভূতপূর্ব মানসিক শান্তির সন্ধান পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ চল্লিশ টি শাড়ি, পাঁচটি থ্রিপিস, পাঁচটি লুঙ্গি, এছাড়া পঞ্চাশ টি পরিবারের জন্য পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, সেমাই, চিনি, দুধ এবং একটি করে সাবান দিয়ে পঞ্চাশ টি উপহার প্যাকেট রেডি করেছি। নিজের সামর্থের সবটুকু ব্যয় করে কাজগুলো করেছি তাই নিজের পরিবারের জন্য কোন কিছু কেনাকাটা করতে পারিনি। কিন্তু তাতে আমার মোটেও আফসোস নাই। যে পবিত্র প্রশান্তি আমি এই কাজের মাঝে খুজে পেলাম তা কখনোই কোন ঈদ শপিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া যায় না। যদি জীবনের নতুন মানে খুঁজে পেতে চান, যদি নিজেকে প্রাণ ভরে ভালবাসতে চান তাহলে একটা বার আমার মতো “বোকামি” করে দেখতে পারেন। আশা করি নিরাশ হবেন না! মানুষের হাসিমুখের চেয়ে সুন্দর কিছু এই পৃথিবীতে নেই। আসুন সেই সুন্দরের খোঁজে নেমে পরি, আজ, এক্ষুণি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *