সরেজমিন নিউজ

পানির নিচ থেকে দৃশ্যমান রাঙামাটির সেতু

কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় আবারও পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির জনপ্রিয় ঝুলন্ত সেতু। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকার পর সেতুটি ফিরে পাওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তুলে নেওয়া হয়েছে সেতুতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা। ফলে পর্যটনকেন্দ্রটিতে আবারও ফিরতে শুরু করেছে আগের মতো ব্যস্ততা।বুধবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায় সেতুটি। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই দিনই সেখানে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ১২ অক্টোবর হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে সেতুটি দৃশ্যমান হয়। প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত করা হয় স্থাপনাটি।কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বর্ষা মৌসুমে ঝুলন্ত সেতু তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রতি বছরই রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণটির স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। গত বছরও টানা ৮৫ দিন পানির নিচে ছিল সেতুটি।এতে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এবার সেতুটি আবার খুলে দেওয়ায় পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৬ সালে নির্মিত হয় ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতু। দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি রাঙামাটির অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থান। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখের বেশি পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন।সেতুতে প্রবেশের জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। পর্যটকদের আগমন থেকে বছরে কোটি টাকার বেশি আয় হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেতুটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে পর্যটনকেন্দ্রের আয় ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে।বারবার পানিতে তলিয়ে যাওয়া এবং পরে সংস্কার করে খুলে দেওয়ার পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী সমাধান চান পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, হ্রদের পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পর্যটন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

পানির নিচ থেকে দৃশ্যমান রাঙামাটির সেতু