মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। দেশজুড়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কত দিন লাগবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর।বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের কাজ থেমে নেই। তদন্ত কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং দলটির বিভিন্ন শাখা ও উপশাখা থেকে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই জানানো যাচ্ছে না।আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দল হিসেবে এ ধরনের বিচার বাংলাদেশে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন গাজী এমএইচ তামিম। তাঁর ভাষ্য, তদন্ত কর্মকর্তা প্রসিকিউশনের সহায়তা ও পরামর্শ নিয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা কঠিন।তিনি জানান, বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন পর্যায়ে ৭০টি মামলার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি তদন্ত সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রসিকিউশন প্রায় ৭০০টি অভিযোগ পেয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম। গত ৪ অক্টোবর প্রসিকিউটর তামিমও জানিয়েছিলেন, তদন্ত চলছে এবং তা স্থবির হয়ে পড়েনি।সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন ও আনিসুল হকসহ কয়েকটি আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তামিম। এসব মামলার অগ্রগতিতে প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরবর্তী কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করবে ট্রাইব্যুনাল।বিচারকাজে সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে তামিম বলেন, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনালগুলোর অবকাঠামো ও কার্যক্রম নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। এ কারণে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।তবে তাঁর মতে, একটি মামলার বিচার শেষ করতে গড়ে সাত থেকে আট মাস সময় লাগে। মামলার ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তদন্তের সময়সীমা একেক ক্ষেত্রে একেক রকম হয়।গ্রেপ্তার কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন পেয়েছে বলেও জানান গাজী এমএইচ তামিম। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। অভিযোগগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন পাওয়ার পর সেগুলো দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।বিচারকাজের গতি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তামিম বলেন, প্রসিকিউশন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করছে। একই সঙ্গে মামলার উভয় পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।