Dhaka , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম :
বেক্সিমকোর তারেক আলমকে ঘিরে আটকের পর রহস্য, প্রশ্নে তদন্ত প্রক্রিয়া ‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমের‘ মনোনয়নে ফিল কলিন্স, ওয়েসিস, পিংক ও শাকিরা ইরানে দুই স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অর্ধ-শতাধিক পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি পাননি, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার আইভী কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান? ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা চালু বিষয়ে সুসংবাদ দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্যাক্স বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: আমির খসরু

বেক্সিমকোর তারেক আলমকে ঘিরে আটকের পর রহস্য, প্রশ্নে তদন্ত প্রক্রিয়া

২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের আকাশ ডিজিটাল টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক আলমকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায়। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আটক করে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানা যায়।

একাধিক সূত্রের দাবি, তারেক আলমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ অঙ্কের অর্থ পাচারের সন্দেহেও তাকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে আটকের পরপরই ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী তারেক আলম মুক্তি পান। তাকে আদৌ আদালতে তোলা হয়েছিল কিনা, নাকি দুদকের হেফাজত থেকেই দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয় তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর দুদকের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং হলেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দুদকে কর্মরত একাধিক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাজার কোটি টাকার পাচার সংশ্লিষ্ট সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও কেন তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। এ বিষয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তার মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে আকাশ ডিজিটাল টিভির একটি সূত্র জানিয়েছে, তারেক আলম বর্তমানে অফিস করছেন না। তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, আটক হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বিদেশে চলে যান।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী কর্পোরেট গ্রুপ তারেক আলমের আটকের ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম থেকে তার আটকের সংবাদ সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকিং নিয়ম ভেঙে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনটি সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত টিমও কাজ করছে।

এই চলমান তদন্তের মধ্যেই তারেক আলমের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে দ্রুত ছাড় দেওয়ার অভিযোগে কেউ কেউ তৎকালীন দুদক কমিশনারদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তারেক আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বেক্সিমকোর তারেক আলমকে ঘিরে আটকের পর রহস্য, প্রশ্নে তদন্ত প্রক্রিয়া

বেক্সিমকোর তারেক আলমকে ঘিরে আটকের পর রহস্য, প্রশ্নে তদন্ত প্রক্রিয়া

প্রকাশ : ৯ ঘন্টা আগে

২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের আকাশ ডিজিটাল টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক আলমকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায়। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আটক করে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানা যায়।

একাধিক সূত্রের দাবি, তারেক আলমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ অঙ্কের অর্থ পাচারের সন্দেহেও তাকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে আটকের পরপরই ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী তারেক আলম মুক্তি পান। তাকে আদৌ আদালতে তোলা হয়েছিল কিনা, নাকি দুদকের হেফাজত থেকেই দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয় তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর দুদকের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং হলেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দুদকে কর্মরত একাধিক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাজার কোটি টাকার পাচার সংশ্লিষ্ট সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও কেন তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। এ বিষয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তার মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে আকাশ ডিজিটাল টিভির একটি সূত্র জানিয়েছে, তারেক আলম বর্তমানে অফিস করছেন না। তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, আটক হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বিদেশে চলে যান।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী কর্পোরেট গ্রুপ তারেক আলমের আটকের ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম থেকে তার আটকের সংবাদ সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকিং নিয়ম ভেঙে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনটি সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত টিমও কাজ করছে।

এই চলমান তদন্তের মধ্যেই তারেক আলমের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে দ্রুত ছাড় দেওয়ার অভিযোগে কেউ কেউ তৎকালীন দুদক কমিশনারদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তারেক আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।