Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম :
বেক্সিমকোর তারেক আলমকে ঘিরে আটকের পর রহস্য, প্রশ্নে তদন্ত প্রক্রিয়া ‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমের‘ মনোনয়নে ফিল কলিন্স, ওয়েসিস, পিংক ও শাকিরা ইরানে দুই স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অর্ধ-শতাধিক পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি পাননি, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার আইভী কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান? ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা চালু বিষয়ে সুসংবাদ দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্যাক্স বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: আমির খসরু

কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান?

  • Reporter Name
  • প্রকাশ : ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 5

কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান- আফগানিস্তান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা ফ্ল্যাশ

দীর্ঘদিনের উত্তেজনার চরম পর্যায়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এখন খোলামেলা যুদ্ধ চলছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পাকিস্তানের দাবি, আফগান বাহিনী প্রথমে সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। এর জবাবে রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তালেবান যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, পাকিস্তানের হামলার পর তারা সীমান্তজুড়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আমাদের ধৈর্যের পেয়ালা উপচে পড়েছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে খোলামেলা যুদ্ধ।”

কী ঘটেছে শুক্রবার ভোরে?

স্থানীয় সময় ভোর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে প্রথম বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এরপরই আফগান বাহিনী বিমান বিধ্বংসী গুলি ছোঁড়ে।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বরাতে জানা গেছে, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে তালেবানের ‘প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদও তিনটি প্রদেশে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এ হামলায় আফগানিস্তানের দুটি ব্রিগেড ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তালেবানের বেশ কয়েকটি অবস্থান ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে। এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় স্থলপথেও হামলা চালানো হয়।

শুক্রবার সকালে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তের কাছে আফগান সেনাদের অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা পাকিস্তানি বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধক দাবি

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বিবৃতি একেবারেই বিপরীত।

  • পাকিস্তানের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, ভোরের হামলায় ১৩৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২৭টি তালেবান পোস্ট ধ্বংস এবং ৮০টির বেশি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। ডন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষে পাকিস্তানের দুই সেনা নিহত হয়েছেন।
  • আফগানিস্তানের দাবি: তালেবান সরকার অবশ্য পাকিস্তানের দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, তাদের মাত্র আটজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অপর এক বিবৃতিতে আফগান বাহিনী দাবি করেছে, পাল্টা হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৭০ জন ‘মিলিট্যান্ট’ নিহত হওয়ার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। তাদের ভাষ্য, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

কেন এই সংঘর্ষ?

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর মূল কারণ ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) নামক সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

পাকিস্তানের দাবি, টিটিপি যোদ্ধারা আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে। আফগান তালেবানের উচিত তাদের নিয়ন্ত্রণ করা।

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শিক ও সামাজিকভাবে টিটিপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় আফগান তালেবান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চায় না। ফলে এই ইস্যুটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ‘ক্ষয়প্রাপ্ত উত্তেজনা’ তৈরি করে রেখেছিল।

সীমান্ত নিয়ে পুরোনো বিরোধ

দুই দেশের মধ্যে আরেকটি বড় বিরোধের নাম ডুরান্ড লাইন। ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখা আফগানিস্তান কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। আফগানিস্তানের দাবি, ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা পশতুন অধ্যুষিত এলাকা ভাগ করে এই সীমান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল।

ভারতের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে বাইরে স্থানান্তরের একটি চেষ্টা।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়া সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান এবং উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া এ ব্যাপারে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এক বিবৃতিতে বলেছেন, পাকিস্তানকে তার নীতি পরিবর্তন করে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে। আগ্রাসনের জবাব আফগানরা সাহসিকতার সঙ্গেই দেবে।”

বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এবারের হামলা একটি ‘কৌশলগত পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত দেয়। তারা এখন সরাসরি ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তবে আফগান তালেবানের পক্ষে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি সাঁজোয়া যুদ্ধে জেতা কঠিন। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক আবদুল বাসিতের মতে, আফগান বাহিনী হয়তো অপ্রচলিত কৌশল—যেমন আত্মঘাতী হামলা বা ড্রোন হামলা—চালাতে পারে। আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার মনে করেন, পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করবে না; তবে ভারী গোলাগুলি ও আর্টিলারি হামলা অব্যাহত থাকতে পারে।

জ/ক

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বেক্সিমকোর তারেক আলমকে ঘিরে আটকের পর রহস্য, প্রশ্নে তদন্ত প্রক্রিয়া

কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান?

প্রকাশ : ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা ফ্ল্যাশ

দীর্ঘদিনের উত্তেজনার চরম পর্যায়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এখন খোলামেলা যুদ্ধ চলছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পাকিস্তানের দাবি, আফগান বাহিনী প্রথমে সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। এর জবাবে রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তালেবান যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, পাকিস্তানের হামলার পর তারা সীমান্তজুড়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আমাদের ধৈর্যের পেয়ালা উপচে পড়েছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে খোলামেলা যুদ্ধ।”

কী ঘটেছে শুক্রবার ভোরে?

স্থানীয় সময় ভোর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে প্রথম বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এরপরই আফগান বাহিনী বিমান বিধ্বংসী গুলি ছোঁড়ে।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বরাতে জানা গেছে, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে তালেবানের ‘প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদও তিনটি প্রদেশে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এ হামলায় আফগানিস্তানের দুটি ব্রিগেড ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তালেবানের বেশ কয়েকটি অবস্থান ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে। এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় স্থলপথেও হামলা চালানো হয়।

শুক্রবার সকালে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তের কাছে আফগান সেনাদের অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা পাকিস্তানি বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধক দাবি

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বিবৃতি একেবারেই বিপরীত।

  • পাকিস্তানের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, ভোরের হামলায় ১৩৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২৭টি তালেবান পোস্ট ধ্বংস এবং ৮০টির বেশি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। ডন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষে পাকিস্তানের দুই সেনা নিহত হয়েছেন।
  • আফগানিস্তানের দাবি: তালেবান সরকার অবশ্য পাকিস্তানের দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, তাদের মাত্র আটজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অপর এক বিবৃতিতে আফগান বাহিনী দাবি করেছে, পাল্টা হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৭০ জন ‘মিলিট্যান্ট’ নিহত হওয়ার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। তাদের ভাষ্য, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

কেন এই সংঘর্ষ?

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর মূল কারণ ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) নামক সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

পাকিস্তানের দাবি, টিটিপি যোদ্ধারা আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে। আফগান তালেবানের উচিত তাদের নিয়ন্ত্রণ করা।

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শিক ও সামাজিকভাবে টিটিপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় আফগান তালেবান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চায় না। ফলে এই ইস্যুটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ‘ক্ষয়প্রাপ্ত উত্তেজনা’ তৈরি করে রেখেছিল।

সীমান্ত নিয়ে পুরোনো বিরোধ

দুই দেশের মধ্যে আরেকটি বড় বিরোধের নাম ডুরান্ড লাইন। ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখা আফগানিস্তান কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। আফগানিস্তানের দাবি, ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা পশতুন অধ্যুষিত এলাকা ভাগ করে এই সীমান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল।

ভারতের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে বাইরে স্থানান্তরের একটি চেষ্টা।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়া সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান এবং উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া এ ব্যাপারে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এক বিবৃতিতে বলেছেন, পাকিস্তানকে তার নীতি পরিবর্তন করে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে। আগ্রাসনের জবাব আফগানরা সাহসিকতার সঙ্গেই দেবে।”

বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এবারের হামলা একটি ‘কৌশলগত পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত দেয়। তারা এখন সরাসরি ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তবে আফগান তালেবানের পক্ষে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি সাঁজোয়া যুদ্ধে জেতা কঠিন। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক আবদুল বাসিতের মতে, আফগান বাহিনী হয়তো অপ্রচলিত কৌশল—যেমন আত্মঘাতী হামলা বা ড্রোন হামলা—চালাতে পারে। আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার মনে করেন, পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করবে না; তবে ভারী গোলাগুলি ও আর্টিলারি হামলা অব্যাহত থাকতে পারে।

জ/ক