রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে তার সৎবাবাকে (৪৩) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। চরম অমানবিক ও নৃশংস এই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অভিযোগগুলো কোনো সংশয় ছাড়াই প্রমাণিত হয়েছে। সে কারণেই তাঁকে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হলো। জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভিকটিম বা তাঁর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামি ভুক্তভোগীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। একই স্থানে বসবাসের সুযোগে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে প্রথমবার জোরপূর্বক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে সে ধারাবাহিকভাবে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে সন্তানের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার কিশোরীর মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। একই বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় এলো। আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত মন্তব্য করেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্যাতন করা কেবল একক কোনো ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো সমাজের ওপর এক চরম আঘাত। সমাজে ন্যায়বিচার অক্ষুণ্ন রাখা এবং এমন বর্বর মানসিকতার উপযুক্ত জবাব দিতেই এই দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
.png)
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে তার সৎবাবাকে (৪৩) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। চরম অমানবিক ও নৃশংস এই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অভিযোগগুলো কোনো সংশয় ছাড়াই প্রমাণিত হয়েছে। সে কারণেই তাঁকে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হলো। জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভিকটিম বা তাঁর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামি ভুক্তভোগীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। একই স্থানে বসবাসের সুযোগে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে প্রথমবার জোরপূর্বক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে সে ধারাবাহিকভাবে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে সন্তানের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার কিশোরীর মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। একই বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় এলো। আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত মন্তব্য করেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্যাতন করা কেবল একক কোনো ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো সমাজের ওপর এক চরম আঘাত। সমাজে ন্যায়বিচার অক্ষুণ্ন রাখা এবং এমন বর্বর মানসিকতার উপযুক্ত জবাব দিতেই এই দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন