প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
অসুস্থ খরগোশকে কোলে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে পাঁচ বছরের সিনহাা
||
পাঁচ বছরের শিশুর কোলে একটি অসুস্থ খরগোশ। শিশুটির চোখেমুখে গভীর উৎকণ্ঠা। খরগোশটিও চোখ বন্ধ করে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে তার কোলে। গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।শিশুটির নাম সিনহা মনি। সে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামে নানা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে থাকে।নানার কিনে দেওয়া খরগোশটি এখন সিনহা সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী। সে খরগোশটির নাম দিয়েছে ‘মন্টু’। দিনের অনেকটা সময়ই কাটে মন্টুর সঙ্গে। কয়েক দিন ধরে খরগোশটি অসুস্থ। খাবারও খাচ্ছে না। দেড় বছর আগে জয়নাল আবেদীন ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ছোট্ট একটি খরগোশছানা এনে দেন নাতনিকে। সেই থেকে মন্টুই হয়ে ওঠে সিনহার নিত্যসঙ্গী।সিনহার ধারণা, কেউ হয়তো খরগোশটির কোমর ভেঙে দিয়েছে। এর পর থেকেই সে নিজেও খাওয়াদাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তাই প্রিয় মন্টুকে কোলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য গেছে প্রাণিচিকিৎসকের কাছে।সিনহার সঙ্গে এসেছেন তার খালা জামিয়া আক্তার। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জন্মের পর সিনহার মায়ের মুখ দেখতে পারেনি। প্রসবজনিত জটিলতায় সন্তান জন্মদানের পরপরই মারা যান সিনহার মা। এরপর নানা-নানির কাছেই বড় হচ্ছে সে। নাতনিকে আনন্দে রাখতে নানা তাকে পোষাপ্রাণী কিনে দেন। খরগোশ ছাড়া সিনহার একটি বিড়ালছানাও আছে। বিড়ালটির নাম ‘ঝন্টু’।আশরাফ হোসেন, শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাপ্রতিদিনই আমাদের কাছে পোষা বিড়াল, কুকুর, খরগোশের চিকিৎসা নিতে আসেন অনেকে। তবে কোনো শিশুর প্রাণীর প্রতি এমন গভীর মায়া দেখলে মনটা ভরে ওঠে।দেড় বছর আগে জয়নাল আবেদীন ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ছোট্ট একটি খরগোশছানা এনে দেন নাতনিকে। সেই থেকে মন্টুই হয়ে ওঠে সিনহার নিত্যসঙ্গী। নাম ধরে ডাকলেই কোলে উঠে আসে মন্টু। সিনহা নিজ হাতে তাকে ভাত, ঘাস, এমনকি চিপসও খাওয়ায়। আর বিড়াল ঝন্টুর জন্য থাকে মাছ ও দুধ-ভাত। এই দুই প্রাণীকে ঘিরেই শিশুটির নিত্যদিনের আনন্দ।সিনহার খালা জামিয়া আক্তার পোশাক কারখানায় কাজ করেন। কাজ শেষে বাসায় ফিরে দেখেন ভাগনি খরগোশ কোলে নিয়ে বসে আছে। তার মন খারাপ। বাধ্য হয়ে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তিনি সিনহাকে সঙ্গে করে পশু হাসপাতালে এসেছেন।মন্টুকে কোলে নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদের কাছে যায় শিশু সিনহাশ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদ কিছুক্ষণ সিনহার সঙ্গে কথা বলে তাকে শান্ত করেন। এরপর কোলে থাকা খরগোশটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি বলেন, খরগোশের কোমরে ব্যথা আছে, তবে সত্যিই হাড় ভেঙেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে করা প্রয়োজন। আপাতত ওষুধ দিয়ে দুই দিন অবস্থা দেখতে বলেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতিদিনই তাদের কাছে পোষা বিড়াল, কুকুর, খরগোশের চিকিৎসা নিতে আসেন অনেকে। তবে কোনো শিশুর প্রাণীর প্রতি এমন গভীর মায়া দেখলে মনটা ভরে ওঠে।বেসরকারি পর্যায়ে পোষা প্রাণীর চিকিৎসা চাহিদা বাড়ছে
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত