প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
শনিবার থেকে দেশে শুরু হচ্ছে বৃহৎ কলেরা টিকাদান কর্মসূচিা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি–এইডসের মতো রোগের নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিলেও স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন মিলনায়তনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী উল্লেখ করেন, অসচেতনতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলেই অনেক সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। তাই করোনা মহামারির মতো হাত ধোয়া, মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস ধরে রাখতে হবে।শনিবার থেকে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা
উদ্বোধনী ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী শনিবার থেকে নির্বাচিত এলাকায় মুখে খাওয়ার কলেরা টিকার প্রথম ডোজ প্রদান শুরু হবে এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। ১ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো ব্যক্তি এই টিকা গ্রহণের যোগ্য।টিকা কর্মসূচির মূল রূপরেখালক্ষ্যমাত্রা: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোট ১৪টি এলাকায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষকে দুই ডোজ মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি টিকা দেওয়া হবে।সহযোগী সংস্থা: গ্যাভি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ, আইএফআরসি ও আইসিডিডিআর,বি।মেয়াদ ও লক্ষ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে কলেরাজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছর এই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলবে।যাদের জন্য প্রযোজ্য নয়: গর্ভবতী নারী, তীব্র শারীরিক সংক্রমণে ভোগা রোগী এবং টিকার উপাদানে মারাত্মক অ্যালার্জির ইতিহাস থাকা ব্যক্তিরা এই টিকা নিতে পারবেন না।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ জানান, এই টিকা শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করলেও কলেরামুক্ত পরিবেশের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের উন্নয়ন অপরিহার্য। আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী একে দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অতীতে প্রাদুর্ভাবের সময় জরুরি ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হলেও এবারই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ক্যাম্পেইন শুরু হলো।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পথখাবার বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত