প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় নথির পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকাা
সরেজমিন রিপোর্ট ||
দেশে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া বর্তমানে পুরোদমে চলছে, যেখানে করদাতারা এখন থেকে বছরজুড়েই নিজেদের বিবরণী জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন জমা সম্পন্ন করলে আয়করে বিশেষ ছাড় বা রেয়াতের সুবিধা পাওয়া যায়। আইন অনুযায়ী একজন করদাতার মূলত সাতটি নির্দিষ্ট খাত থেকে আয় হতে পারে, যা রিটার্নে সুনির্দিষ্টভাবে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। তবে কোনো খাতের আয় মনগড়াভাবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই; প্রতিটি আর্থিক তথ্যের সপক্ষে আইনসম্মত প্রমাণপত্র ও নথিপত্র থাকা আবশ্যক, যা ছাড়া অনলাইনে বা সরাসরি রিটার্ন প্রস্তুত করা সম্ভব নয়।বিভিন্ন খাতের আয়ের সত্যতা নিশ্চিত করতে ভিন্ন ভিন্ন নথির প্রয়োজন পড়ে। চাকরিজীবী করদাতাদের ক্ষেত্রে বেতন বিবরণী, নিয়মিত পে-স্লিপ এবং কর্মক্ষেত্র থেকে প্রদত্ত উৎসে কর কর্তনের সনদ সংগ্রহে রাখতে হয়। কৃষি খাতের আয়ের বিপরীতে জমির মালিকানা দলিল কিংবা লিজের চুক্তিপত্র, কৃষিপণ্য বিক্রির সুনির্দিষ্ট চালান, ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রয়োজন হয়। ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসায়িক নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠানের ক্যাশবুক, লেজার, কেনাবেচার হিসাব, ইনভয়েস, ভাউচার, স্টক রেজিস্টার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাবের বিবরণী প্রস্তুত রাখা জরুরি।বিনিয়োগ থেকে আসা আয়ের প্রমাণ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের তথ্য, ফিক্সড ডিপোজিটের (এফডিআর) সনদ, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মুনাফার বিবরণী, শেয়ার বাজারের বিও হিসাব এবং মিউচুয়াল ফান্ডের স্টেটমেন্ট দরকার হয়। অন্যদিকে বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া বাবদ আয় প্রদর্শনে ভাড়া চুক্তিপত্র, ভাড়া আদায়ের রসিদ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তির মূল মালিকানা দলিল, পৌরকর পরিশোধের রসিদ এবং মেরামত ব্যয়ের সপক্ষে কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। মূলধনি মুনাফা অর্থাৎ জমি, ফ্ল্যাট কিংবা শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে মূল ক্রয়-বিক্রয় দলিল, সরকারি রেজিস্ট্রেশনের কাগজ ও ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য লাগে। এছাড়া পরামর্শ ফি, কমিশন, রয়্যালটি, সম্মানী বা পুরস্কার বাবদ অর্জিত অন্যান্য আয়ের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সনদ থাকা বাধ্যতামূলক।খাতভিত্তিক দলিলের পাশাপাশি প্রতিটি করদাতার সাধারণ কিছু তথ্য প্রস্তুত রাখা আবশ্যক, যার মধ্যে রয়েছে সক্রিয় ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং ভবিষ্য তহবিলের তথ্য। একইভাবে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য জীবনবিমার প্রিমিয়াম কিংবা অনুমোদিত খাতে অনুদানের রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। রিটার্ন দাখিলের পর এসব নথিপত্র নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা উচিত, কারণ পরবর্তীতে যেকোনো নিরীক্ষা বা কর মূল্যায়নের সময় কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করতে পারে। অসম্পূর্ণ তথ্য বা প্রমাণের ঘাটতি থাকলে ভবিষ্যতে আর্থিক জরিমানা ও আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত