প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, প্রতিদিন সেবা নিচ্ছেন ১২০০–১৫০০ রোগীা
ধামরাই প্রতিনিধি ||
ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিতে এলেও প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও জনবল কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক বাসিন্দা।শুধু বহির্বিভাগ নয়, হাসপাতালের অন্তর্বিভাগেও রয়েছে রোগীর অতিরিক্ত চাপ। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ শয্যার সমপরিমাণ রোগী ভর্তি থাকছেন। ফলে অনেক রোগীকে বেডের পরিবর্তে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওষুধের স্বল্পতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় হাসপাতালের এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে সংকট। ফলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে পরীক্ষা করানোর সুযোগ না পেয়ে রোগীদের বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।ধামরাই আয়তনের দিক থেকে ঢাকা জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য সরকারি ব্যবস্থায় এই একটি ৫০ শয্যার হাসপাতালই প্রধান ভরসা। কিন্তু সেখানে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।সম্প্রতি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে লোডশেডিং এবং টিকিট কাউন্টারের আশপাশে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেককেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পাওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানান সেবাগ্রহীতারা। এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনিক মিয়া জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পর ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে নতুন সমস্যায় পড়তে হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় সব ওষুধ পাওয়া যায় না। তার প্রেসক্রিপশনে সাত ধরনের ওষুধ থাকলেও হাসপাতাল থেকে তিনি পেয়েছেন মাত্র দুটি।হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের পরিস্থিতিও স্বস্তিদায়ক নয়। ৫০ শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বেডের সংকট তৈরি হয়েছে। জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে।এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, সকালে চিকিৎসকের দেখা পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে জরুরি প্রয়োজন হলে অনেক সময় নার্সদের ওপরই নির্ভর করতে হয়।এদিকে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এক্স-রে ও কিছু প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা বন্ধ থাকায় দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে গিয়ে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও ফিল্ড স্টাফসহ মোট ১৩৫টি অনুমোদিত পদের মধ্যে প্রায় ৩০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালের নয়জন চিকিৎসক নিজ কর্মস্থলে না থেকে সংযুক্তি বা ডেপুটেশনে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।প্যাথলজি বিভাগেও প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহমেদুল হক তিতাস বলেন, হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক বর্তমানে সংযুক্তিতে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হওয়ায় রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।তিনি বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মানুষের সেবা দিতে হচ্ছে। জনবল ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধামরাইয়ের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, চিকিৎসক সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত