প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান পেজেশকিয়ানেরা
সরেজমিন রিপোর্ট ||
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত দ্রুত শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক তৎপরতা যখন কার্যত স্থবির, তখন তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান আগের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান অবস্থান থেকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে এর অবসান ঘটানোই তেহরানের জন্য বেশি লাভজনক হবে।পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান এখন শক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ। তার দাবি, বিশ্বের অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছে। বিশেষ করে ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে।গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।ইরানের কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ অভিযোগ করেছিল, ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে সরকার। তবে সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতার কোনো অংশেই ইরানের আত্মসমর্পণের বিষয় নেই।তার দাবি, চুক্তিতে যেসব প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর বড় অংশই অপর পক্ষকে বাস্তবায়ন করতে হবে।তবে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বও পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের পাশাপাশি বিমান প্রতিরক্ষা ও সাইবার সক্ষমতা নিয়েও বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।নতুন কোনো হুমকি তৈরি হলে ইরান তার জবাব কঠোরভাবে দেবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।এদিকে সংঘাতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। শুক্রবার ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় চালুর পরিবেশ তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।হরমুজ প্রণালির একটি অংশে জাহাজ চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে। অন্যদিকে ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যক্রমও অব্যাহত আছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে কিছু তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করছে এবং সেগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ পাহারা দিচ্ছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইরান নতুন করে আলোচনায় বসতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন। তার দাবি, হরমুজ প্রণালি, এর আশপাশের এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট স্থলভাগের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান সমঝোতায় যেতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে তারা এখনো একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো প্রস্তুত হয়নি।ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটির সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হবে।
ফলে একদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের দ্রুত অবসানের কথা বলছেন, অন্যদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত