প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে শেষ মুহূর্তের পরীক্ষাঃবছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলারা
পাবনা প্রতিনিধি ||
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রাথমিক ধাপ শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে কেন্দ্রটিতে শেষ পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই চলছে।প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রাখা হয়েছে আগামী বছরের শুরুতে। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিটটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমতে পারে।সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে জ্বালানি আমদানি বাবদ বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে পারমাণবিক বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হতো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সেই জ্বালানির দাম কত ছিল তার ওপর।এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান জানান, আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব ধরনের পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে শতাধিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রমে যাওয়া হচ্ছে।নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীলভাবে বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার ব্যবহার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা কিংবা সরবরাহ সংকটের প্রভাবও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামোর কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন ব্যবস্থার কমিশনিং কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।তবে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে একসঙ্গে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে জাতীয় গ্রিড ও সঞ্চালনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও প্রস্তুত করতে হবে। কারণ দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে এবং প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে গেলে শুধু জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন সক্ষমতা যোগ হবে না, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পরীক্ষামূলক গ্রিড সংযোগের আগে প্রতিটি নিরাপত্তা ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত