প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে চাপঃ তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তাা
সরেজমিন রিপোর্ট ||
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।শনিবার নয়াদিল্লিতে একটি আলোচনাসভায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন জয়শঙ্কর। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।জয়শঙ্কর বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা চলছে, তা প্রকাশ্যে মন্তব্য করার বিষয় নয়। তবে কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে উভয় দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো সব সময় ভারতের স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। একইভাবে ভারতও অন্য দেশের যৌক্তিক স্বার্থকে সম্মান করবে। দুই পক্ষের মধ্যে এ ধরনের পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশনে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।তবে তারেক রহমান আদৌ দিল্লি সফরে যাবেন কি না, এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরও তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে চলমান আলোচনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সফরের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে সফরটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সরকার এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে দেশের সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থান নিয়েছে।বাংলাদেশে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ঢাকার অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট দিল্লির একটি ক্লাব থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।বাংলাদেশ সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও ভারত সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, দিল্লিতে হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁর বক্তব্যে সরাসরি হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ উঠে না এলেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও সহযোগিতার ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক অস্বস্তির মধ্যে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন পথে এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর বাস্তবে রূপ নেয় কি না এটি এখন আলোচনার বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত