প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যার রহস্য উন্মোচন, আটক দুই মামাতো ভাইা
রংপুর প্রতিনিধি ||
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের জট খুলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সম্পর্কে মামাতো ভাই এই দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।রোববার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। একপর্যায়ে শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাঁদের দেখতে পান। তখন তাঁর গলায় থাকা গামছা ব্যবহার করে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ছাদের দিকে উঠতে গেলে তাঁকেও সিঁড়ির কাছেই হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এরপর দম্পতির মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পরিবারের ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী যাতে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে জানাতে না পারে, সে আশঙ্কায় তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।পুলিশ জানায়, হত্যার খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে একজন পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগান এলাকায় আশ্রয় নেন। পরে সেখানকার কাছাকাছি দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার ওই বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েক দিন ধরে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। শনিবার রাতের দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। পরে পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির পাশের চিলেকোঠা এলাকায় ছিল। আর ছেলে আয়ুসের মরদেহ পাওয়া যায় একটি খাটের নিচে।নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী (১২)।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে যোগাযোগ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী। শনিবার ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে তিনি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে প্রধান ফটকে বাইরে থেকে তালা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। এরপর রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। ছেলে আয়ুস রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো ঘটনা, অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত