প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন হিসাব, যুক্ত হচ্ছে এসএনএ চার্জা
সরেজমিন রিপোর্ট ||
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয়ের সঙ্গে নতুন একটি চার্জ যুক্ত হতে যাচ্ছে। আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ, গ্রিড পরিচালনা, মিটারিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি সমন্বয়ের খরচ মেটাতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি বা এসএনএ চার্জ দিতে হবে।এটি বিদ্যুতের মূল ক্রয়মূল্য বা ট্যারিফের অংশ নয়। বিদ্যুৎ আমদানির পাশাপাশি আলাদাভাবে এই চার্জ পরিশোধ করতে হবে।এসএনএ চার্জ আদায়ের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনভিভিএন এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত চেয়ে ১৮ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০১ ভারতীয় রুপি এসএনএ চার্জ দাবি করেছিল। আলোচনার পর প্রস্তাবিত হার অর্ধেক করে ০.০০৫ রুপি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চার্জের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এর মোট আর্থিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে।এ ছাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে দেরি হলে ভারত থেকে নির্ধারিত ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত বিধিবিধানের আওতায় এ ধরনের চুক্তি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এসএনএ চার্জকে মূলত বিদ্যুতের দাম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কারিগরি ও হিসাব-নিকাশের ব্যয়।বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ, মিটার থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিদ্যুতের ব্যবহার হিসাব করা, গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নির্ধারণ এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম-বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে তার আর্থিক সমন্বয়ের মতো কাজের সঙ্গে এ চার্জ সম্পর্কিত।ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে এ ধরনের সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নেপাল ও ভুটানের ক্ষেত্রেও প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে একই ধরনের চার্জ প্রযোজ্য বলে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যদি ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরো সক্ষমতায় এক ঘণ্টা সরবরাহ করা হয়, তাহলে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট।প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হিসাবে এক ঘণ্টায় এসএনএ চার্জ হবে প্রায় ৫,৮০০ ভারতীয় রুপি।তবে বাস্তবে কত চার্জ দিতে হবে, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত সময় ও পরিমাণ অনুযায়ী প্রকৃত বিদ্যুৎ আমদানির ওপর।ভারতের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে মোট প্রায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএন, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন, পিটিসি ইন্ডিয়া এবং সেম্বকর্প এনার্জির বিভিন্ন চুক্তি রয়েছে।এর মধ্যে মোট ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য নতুন এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ওই বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকায় আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হচ্ছে না।দেশে গ্যাসের সরবরাহ সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নতুন এসএনএ চুক্তি কার্যকর হলে ভারত থেকে কেনা বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের পাশাপাশি নির্ধারিত হারে এই চার্জও পরিশোধ করতে হবে। ফলে বিদ্যুৎ আমদানির সামগ্রিক ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে এসএনএ চার্জও যুক্ত হবে
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত