প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
উদ্বোধনের পর সাড়ে ৩ বছরঃনেই রূপপুর রেলপথে বাণিজ্যিক ট্রেনা
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেডের পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার রেলপথ এখনো প্রত্যাশিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে না। উদ্বোধনের পর প্রায় সাড়ে তিন বছর পার হলেও এ পথে কোনো বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি।রেলপথটির সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে রূপপুর রেলস্টেশন। বর্তমানে স্টেশনটির ইয়ার্ডে বিভিন্ন রেলওয়ে ওয়াগন ও কোচ রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল না থাকায় রেললাইনের বিভিন্ন অংশে কাশ, ঘাস ও লতাপাতা ছড়িয়ে পড়েছে।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল সহজে পরিবহনের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। একই সঙ্গে ঈশ্বরদী ইপিজেডের পণ্যও এই রেলপথ ব্যবহার করে পরিবহনের পরিকল্পনা ছিল।রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলে। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়।প্রকল্পের আওতায় ১৩টি লেভেল ক্রসিং, সাতটি বক্স কালভার্ট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক কালার লাইট সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও রূপপুর প্রকল্পে ভারী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনে মূলত সড়ক ও নৌপথের ওপরই নির্ভরতা রয়েছে।সম্প্রতি রূপপুর স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্টেশন ভবনটি অনেকটাই নিরিবিলি। প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত যাত্রী চলাচলের কোনো চিত্র নেই। টিকিট কাউন্টার, পণ্য বুকিংয়ের কক্ষ, অতিথিশালা, ভিআইপি কক্ষ, বিশ্রামাগার এবং স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ বেশ কয়েকটি কক্ষ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।স্টেশনের নিরাপত্তায় রেলওয়ের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিয়মিত যাত্রীবাহী বা মালবাহী ট্রেন চলাচল না থাকায় অবকাঠামোটির বড় অংশ কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রূপপুর স্টেশনের ইয়ার্ডে রেলওয়ের কিছু নতুন ওয়াগন ও কোচ রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এসব রেলযানের কিছু অংশ রাখার জন্য জায়গাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।নতুন রেলপথে মাঝে মধ্যে রেল কর্মকর্তাদের মোটরট্রলি চলাচল করলেও বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন এখনো চালু হয়নি।পাকশী বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, এই রেলপথে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি।পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলমের বক্তব্য, রূপপুর প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই এই রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহার সীমিত থাকলেও ভবিষ্যতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলপথটির ব্যবহারও বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রূপপুর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বাড়লে এই রেলপথের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রত্যাশিতভাবে পণ্য পরিবহন শুরু না হওয়ায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত