প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন: মিলতে পারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানা
পাবনা প্রতিনিধি ||
রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষ হওয়ার পথে। চলতি আগস্টের শেষদিকে পাবনা থেকে ঢাকায় সরাসরি ট্রেন চালুর প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য ২৯ আগস্টকে সামনে রেখে পাবনা রেলস্টেশনসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় শেষ মুহূর্তের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু করা। সেই দাবিকে সামনে রেখে এবার রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরাসরি ট্রেন চালু হলে জেলার ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের ঢাকায় যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।পাবনা জেলার ঈশ্বরদী ও চাটমোহর রেল যোগাযোগের আওতায় থাকলেও পাবনা শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেনসেবা এতদিন ছিল না। ফলে রাজধানীতে যেতে অনেক যাত্রীকে বাস কিংবা অন্য রুটের ট্রেনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।২০১৯ সালে পাবনা-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর জেলার রেল যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হলেও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের দাবি থেকেই যায়। এবার সেই দাবিই বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পাবনা রেলস্টেশন ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্টেশন ভবন ও আশপাশের স্থাপনায় রং করা, অবকাঠামো সংস্কার এবং যাত্রীসেবার পরিবেশ উন্নত করার কাজ এগিয়েছে।রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রেন চলাচল শুরুর আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করার চেষ্টা চলছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা এবং ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।পাবনা স্টেশন ইনচার্জ মিরাজুল ইসলাম জানান, স্টেশনের রং ও অবকাঠামোগত বেশির ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন চালুর জন্য সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২৯ আগস্টকে সামনে রাখা হয়েছে। তবে নির্ধারিত তারিখে ট্রেন চলাচল শুরু হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।পাকশী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল হক বলেন, ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর প্রস্তুতিতে সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য ২৯ আগস্টের আগেই প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চালুর খবরে পাবনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়, যানজট ও ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় ট্রেন একটি স্বস্তিদায়ক বিকল্প হতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, পাবনা থেকে সরাসরি ঢাকাগামী ট্রেন চালুর দাবি অনেক দিনের। ট্রেন চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।স্টেশন এলাকার বাসিন্দা আজাহার আলীর মতে, বাসে ঢাকায় যেতে সময় ও খরচ দুটোই তুলনামূলক বেশি। সরাসরি ট্রেন চালু হলে পাবনার সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীরা উপকৃত হবেন।সরাসরি ট্রেন চালু হলে শুধু যাত্রীদের যাতায়াত নয়, পাবনার ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের নিয়মিত যাতায়াত সহজ হবে।শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের জন্যও নতুন রেলসেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষও এর সুবিধা পাবেন।তবে ট্রেন চালুর পর নিয়মিত সময়সূচি, পর্যাপ্ত আসন, টিকিটপ্রাপ্তির সহজ ব্যবস্থা এবং স্টেশনে প্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য ২৯ আগস্টকে ঘিরে পাবনায় এখন সরাসরি ঢাকা ট্রেন চালুর অপেক্ষা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শেষ করে রেলসেবা চালু হলে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন জেলার মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত