প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে উসকানির অভিযোগ: ট্রাইব্যুনালে তিন সাংবাদিকা
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তাদের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল শুনানি করবেন।রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট এই তিন সাংবাদিককে সংশ্লিষ্ট মামলায় হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের।প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন সাংবাদিকের বক্তব্য ও প্রশ্নের ধরন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকতার স্বাভাবিক প্রশ্নের পরিবর্তে তৎকালীন সরকারের পক্ষে প্রশংসামূলক বক্তব্য এবং আন্দোলনকারীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট ধরনের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। এসব বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে।প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ হলেও, ওই অনুষ্ঠানে কিছু বক্তব্যকে রাষ্ট্রপক্ষ সাধারণ প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না। বরং সেগুলোকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট বক্তব্য আদায়ের প্রচেষ্টা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিষয়টি কোনো পুরোনো মামলার অংশ নয়। এ ঘটনায় নতুন করে একটি ‘মিস কেস’ করা হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। মামলার তদন্ত, আদালতের শুনানি এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত