প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
মাকে হত্যার পাঁচ দিন পর নদীতে মিলল শিশুর লাশা
মাদারীপুর প্রতিনিধি ||
মাদারীপুরের শিবচরে মা শাম্পা খাতুনকে হত্যার ঘটনার পাঁচ দিন পর তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে আবিরের মরদেহ আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, মামলার এক সন্দেহভাজন আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়।সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে নদীতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে শিবচর থানা ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি ঝোপে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত নারী ছিলেন নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে শাম্পা খাতুন (২৮)।শাম্পার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ছেলে সন্তান ছিল। মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, এক বছর বয়সী আবিরও নিখোঁজ রয়েছে।নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম জানান, ১৯ আগস্ট বিকেলে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি। একই সময় নাতি আবিরের সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টিও জানতে পারেন। পরে ২০ আগস্ট শিবচর থানায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তিনি।মামলার পর পুলিশ শিশুটির সন্ধান ও হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে। মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার ও শিবচর সার্কেলের মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ এবং র্যাব-৮-এর একটি দল যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।তদন্তের একপর্যায়ে শিবচর ও রাজৈর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশ ফারুক নামে এক সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিহত শাম্পার ব্যবহৃত একটি স্বর্ণের নাকপিন ও রুপার গলার চেইন উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে।এ ছাড়া ওই বাড়ির চুলা থেকে পোড়া অবস্থায় শাম্পার একটি ওড়না এবং এক জোড়া জুতাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ আবিরের সন্ধানে নদীতে তল্লাশি শুরু করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে নিলখী এলাকার নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি উদ্ধারের পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।তদন্তকারীরা এখন শাম্পা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, শিশুটির মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আরও পরিষ্কার হবে।তবে কোনো আসামির জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্য বা পুলিশের প্রাথমিক তথ্যই চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। মামলার তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত