প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
বন্ধুকে ডেকে এনে উধাও, পরিত্যক্ত ড্রেনে মিলল গলিত লাশা
গাজীপুর প্রতিনিধি ||
গাজীপুরের টঙ্গীতে চাকরির আশ্বাস দিয়ে এক প্রবাসী যুবককে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পরিচিত মাজহারুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে। নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহত আকাশ সরদারের বয়স ২১ বছর। তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের করিম সরদারের ছেলে। অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম মিঠু ৩০ বছর বয়সী এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনই আগে কম্বোডিয়ায় ছিলেন।পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর আকাশ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। এ সময় তাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে মিঠু গত ২৭ জুলাই সোনারগাঁও এলাকায় ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এরপর আকাশের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের হোয়াটসঅ্যাপে সুমন নামের এক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন। তিনি আকাশকে আটকে রাখার কথা জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করেন।আকাশের বাবা করিম সরদারের করা মামলায় মিঠু ছাড়াও অপু মিয়া ও সুমন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের নামও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মিঠুর অবস্থান শনাক্ত করে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল রোববার টঙ্গী পশ্চিম থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিঠুর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আকাশের মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়। পরে সোমবার সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সহায়তায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার একটি দল ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত ড্রেনে অভিযান চালায়।সেখান থেকে গলিত অবস্থায় আকাশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে।টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, আকাশকে কেন হত্যা করা হলো এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।নিখোঁজের পর দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে খুঁজে বেড়ানো পরিবারের কাছে মরদেহ উদ্ধারের খবরটি গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে ডেকে নেওয়ার পর এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়েও তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন স্বজনেরা।এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত