প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
যাত্রাবাড়ীর মাদকচক্রে ৯ অস্ত্র, ৪টিই থানা থেকে লুটেরা
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে চারটি বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।সর্বশেষ রোববার রাতে অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় সজীব, হিমু, তুষার, জয়, টুটুল ও ইমরান নামে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মাদক ঢাকায় আসছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার একটি দল মাতুয়াইলের মুক্তি পেট্রলপাম্প এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায়। পরে সন্দেহভাজন একটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হলেও তখন তাঁদের কাছ থেকে কোনো মাদক বা অস্ত্র পাওয়া যায়নি।পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ-করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ বলছে, ওই বাসার একটি খাটের নিচে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ছয়টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক সজীব ওয়ারী এলাকার কথিত সন্ত্রাসী সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাই। সজল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর নিয়ন্ত্রিত অপরাধচক্রের কার্যক্রম সজীব পরিচালনা করছিলেন বলে দাবি পুলিশের।তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ২ মার্চ মাদক উদ্ধারের একটি অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা হয়। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তল এবং ২৩টি গুলি উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।আদালতে দেওয়া তাঁদের জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সজল সরবরাহ করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়ার দাবি করে পুলিশ।এরপর গত ১৮ জুন সায়েদাবাদ এলাকা থেকে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামীবাগের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে দুটি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭টি গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, মাদক তৈরির সরঞ্জাম, নগদ ২২ হাজার ৯৬০ টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথা জানানো হয়।পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২ মার্চের অভিযানে তিনটি অস্ত্র, ১৮ জুন দুটি পিস্তল এবং সর্বশেষ অভিযানে চারটি পিস্তলসহ একই চক্রের কাছ থেকে মোট নয়টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে চারটি অস্ত্র বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।অস্ত্রগুলো কীভাবে চক্রটির হাতে এসেছে, লুট হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা কতটা এবং মাদক কারবারের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবহারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে ডিএমপি জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত