প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
লাখো মানুষের স্রোতে মুখর ষোলশহর, চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসা
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর ও আশপাশের এলাকা বুধবার সকালে পরিণত হয় ধর্মীয় আবহের এক বিশাল সমাবেশস্থলে। ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো হতে থাকেন। কেউ হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক-পিকআপে করে আসেন জশনে জুলুসে অংশ নিতে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতিও।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৫৫তম জশনে জুলুসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আয়োজকদের দাবি, এতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মানুষ অংশ নেন।জুলুসের শুরু থেকেই বিভিন্ন স্থানে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, দরুদ শরিফ, তাকবির ও জিকিরের মাধ্যমে ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে সবুজ পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে জুলুসে যোগ দেন।আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে এ আয়োজনের সূচনা করেন। এবারের আয়োজন ছিল ৫৫তম।জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।জুলুসকে কেন্দ্র করে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসেছে অস্থায়ী বিভিন্ন দোকান। সেখানে আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক, পাঞ্জাবি, পাজামা, জুলুসের পতাকা ও খাবারসহ নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি অংশগ্রহণকারীদের জন্য পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করছেন।জুলুসের পথজুড়ে দেখা গেছে উৎসবমুখর সাজসজ্জা। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজকে তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানার টানানো হয়েছে।বড় এই আয়োজন সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে।নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হওয়া জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে নির্ধারিত জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।বিপুল মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। জুলুসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত উড়ালসড়ক বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।এর আগে গত বছর জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, জুলুসকে ঘিরে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন এবং কুশপুত্তলিকা প্রদর্শনসহ কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বড় এই ধর্মীয় আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত