প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
নেপালে প্রকৃতির ভয়ংকর রূপ, বন্যা-ভূমিধসে ১৬৫ মৃত্যু; নিখোঁজ দেড় হাজারা
সরেজমিন রিপোর্ট ||
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়াসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। একই সঙ্গে নেপাল ও তিব্বত এলাকায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। কোথাও আবার কাদামাটি ও পাহাড়ি ধসে বাড়িঘর চাপা পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।দুর্যোগে বিদেশি পর্যটকদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বন্যায় নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি।দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এই অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে দেশটি।অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজও জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটির ১০৫ জনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না, যাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন।নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা বিভিন্ন ছবিতে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। প্রবল স্রোতে বাড়িঘর ভেসে যেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় কাদামাটির নিচে স্থাপনা চাপা পড়েছে; কোথাও শুধু বাড়ির ওপরের অংশ দৃশ্যমান রয়েছে।স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের আরও নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।বন্যা ও ভূমিধসে মানুষের পাশাপাশি নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতির মুখে পড়েছে।বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদের দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংও নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং সীমান্তপথও এই দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে এটি দুই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র।দুর্যোগের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত