প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
কাস্টমস কর্মী হত্যারহস্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য, আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তিা
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী আবু রায়হান তালুকদার (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করতে সেটি ১৫ টুকরা করা হয়েছিল।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেনের আদালতে রাজু মির্জা (১৯) ও সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলের (২০) জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে রাজু ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজু দীর্ঘদিন আবু রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।পুলিশের দেওয়া তথ্য ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, নিহত আবু রায়হানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজু। ২৪ জুলাই রাতে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে পান করানো হয়। অচেতন হয়ে পড়ার পর লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন রাজু।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রাজু ঘরে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করেন। নিহতের ব্যবহৃত একটি আইফোন নিয়ে তিনি ঢাকায় যান এবং সেটি ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এ ছাড়া রায়হানের ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে টাকা তোলার কথাও জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন তিনি।হত্যার পর মরদেহ গুম করতে রাজু তাঁর সহযোগী সোহেলকে ডেকে আনেন। পরে দুজন মিলে ঘরের ভেতর চাপাতি দিয়ে মরদেহটি ১৫ টুকরা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। দেহের খণ্ডগুলো ব্যাগ ও কাপড়ে মুড়িয়ে বাড়ির কাছের একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়।মরদেহ সরানোর পর হত্যাকাণ্ডের আলামত মুছে ফেলতে ঘরের মেঝে ও বাথরুম পরিষ্কার করা হয়। এ কাজে ডিটারজেন্ট, হ্যান্ডওয়াশ ও হারপিক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।আবু রায়হান তালুকদার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সেপাই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।রাজু প্রায় চার বছর ধরে আবু রায়হানের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিহতের মা রাহেলা খাতুনের দেখাশোনার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে থাকার কারণে তাদের আর্থিক লেনদেন ও মূল্যবান সামগ্রী সম্পর্কে রাজুর ধারণা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর, গত ২ আগস্ট বিকেলে আবু রায়হানের বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও চাদরে মোড়ানো অবস্থায় তাঁর মরদেহের ১৫টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কেয়ারটেকার রাজু, তাঁর সহযোগী সোহেলসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত রাজু ও সোহেল ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের ব্যাংক হিসাব দ্রুত জব্দ করা হয়। ফলে আসামিরা ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা তুলতে পারেননি। দুই আসামিই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত