প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
সংস্কার নিয়ে আপত্তি, গুম ও মানবাধিকার বিলের আগে বিরোধীদের ওয়াকআউটা
বিশেষ প্রতিবেদক ||
পরিপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার আংশিক সংস্কারের পথে এগোচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার রাতে আইন প্রণয়ন কার্যাবলি শুরুর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান।সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল উত্থাপনের আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে যে রায় এসেছে, সেটির পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে সরকার নির্বাচিতভাবে কিছু সংস্কার এগিয়ে নিচ্ছে।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি বিশেষ সংসদ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।শফিকুর রহমানের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল হিসেবে সংসদে না আসায় কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং আরও সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করার মাধ্যমে বাতিল হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সেগুলো পর্যালোচনা করে নতুন করে আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও, বিরোধীদলের দাবি—সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য এতে দুর্বল হয়ে পড়ছে।বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, গুমের অভিযোগ তদন্ত এবং পুলিশ সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংসদে উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা বিলে সেই ক্ষমতা রাখা হয়নি। নতুন ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্তের কথা বলা হয়েছে।তবে প্রস্তাবিত আইনে কোনো শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা তার সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ওই বাহিনীকে তদন্ত থেকে বাদ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে।জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও বিভিন্ন মহলের আপত্তির কথা তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা এবং কমিশনের সদস্য বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব কারণে কমিশনের স্বাধীনতা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, এভাবে সংস্কারের মূল বিষয়গুলোকে ধীরে ধীরে পাশ কাটানো হচ্ছে।তিনি বলেন, বিরোধী দল কোনো খণ্ডিত সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হতে চায় না। তাদের অবস্থান পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে।বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর নির্ধারিত আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত