প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
যশোরে মাকে বঁটি দিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে পলাতকা
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে আনোয়ারা বেগম (৫৮) নামে এক নারীকে ধারালো বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে মামুনুর রশিদ মামুনের (৪৫) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে ফেরার পর মামুনের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি ধারালো বঁটি দিয়ে মায়ের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়রা জানান, হামলার পর আনোয়ারা বেগম গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মামুন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।নিহত আনোয়ারা বেগম বাজে দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে মামুনুর রশিদ ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুনের আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্ত্রী ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে বিয়ে করলেও সেই সম্পর্কও টেকেনি। স্থানীয়দের দাবি, দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মামুন তাঁর মাকে দায়ী করতেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মা-ছেলের মধ্যে আগেও বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল।পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মামুন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকার পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে ফেরেন।যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত