প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন জুয়ার সাইটের ‘সুপার এজেন্ট’ আটকঃ জব্দ টাকা-স্মার্টফোনা
সরেজমিন রিপোর্ট ||
বাংলাদেশে নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়ার একাধিক আন্তর্জাতিক সাইটের ‘অ্যাডমিন’ ও ‘সুপার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অহিদুর রহমান (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব। রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।র্যাব-৩-এর সদস্যরা মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে অহিদুরকে আটক করেন। পরে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানায় সংস্থাটি।র্যাবের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার দিকে আকৃষ্ট করতেন অহিদুর। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তিনি। পরে তাঁদের জুয়ার সাইটে যুক্ত করে অর্থ লেনদেন করতেন।অভিযানকালে অহিদুরের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, দুটি সিম কার্ড, একটি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) হিসাবে থাকা ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্মার্টফোন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করত। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পর্যায়ে এজেন্ট নিয়োগ করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের কাজ চালাতেন।অহিদুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে গ্রাহক সংগ্রহ করতেন বলে দাবি করেছে র্যাব। এরপর জুয়ার সাইটে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কারেন্সি বা ক্রেডিট অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করা হতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে এমএফএসের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করতেন সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা।র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অহিদুর দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার প্রচার ও কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের পুরোনো কথোপকথনও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে দেশের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে জুয়ার সাইটের প্রচার ও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি।র্যাবের ধারণা, অহিদুরের সঙ্গে অনলাইন জুয়ার এই কার্যক্রমে আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।সংস্থাটির দাবি, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে চক্রটির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি ও গাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
র্যাব আরও জানিয়েছে, অহিদুরের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত