প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ২ লাখ কর্মী, ১০ হাজারের জন্য ‘ফ্রি’ সুযোগা
সরেজমিন রিপোর্ট ||
আগামী মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে এসব কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। এর পাশাপাশি আরও ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো খরচ ছাড়াই দেশটিতে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো কর্মী নিয়োগ ও পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান মীর শাহে আলম।তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেখছে। সৌজন্য সাক্ষাতে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে তাঁদের অবহিত করেছেন।বাংলাদেশের সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও মালয়েশিয়া কারিগরি সহযোগিতা দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, পলিমার মডিফাইড বা রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে। সাধারণ বিটুমিনের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করে তৈরি এই উপকরণ সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।মালয়েশিয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের কারণে সেখানকার অনেক সড়ক সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।মীর শাহে আলম জানান, বাংলাদেশেও আগে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে বগুড়া সদর এলাকায় মালয়েশিয়া থেকে আনা রাবারাইজড বিটুমিন দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণ করা হয়, যা এখনো ভালো অবস্থায় রয়েছে।সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের অন্তত ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান। মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিকল বা ইভি খাতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়া। এ ছাড়া সৌর প্যানেল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, এসব বিনিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ই-রিকশা পরিচালনা, উৎপাদন ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মীর শাহে আলম।তিনি বলেন, প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করতে বুয়েট এবং সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর অটোমোবাইল বিভাগের প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো ই-রিকশার নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করবে। তবে প্রধান বা মূল সড়কে এসব যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।প্রস্তাবিত নীতিমালাটি বর্তমানে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে দ্রুত এটি কার্যকর করার আশা করছে সরকার।ই-রিকশার চার্জিং স্টেশনগুলোকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। ভবিষ্যতে নির্ধারিত চার্জিং পয়েন্টে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।তিনি বলেন, যেসব গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্টে ই-রিকশা রিচার্জ করা হবে, সেগুলোকেও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার লাইসেন্স নিতে হবে।বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ই-রিকশা উৎপাদন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।ঢাকার ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় জোনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের একটি প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করা হতে পারে।প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য পৃথক রং নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল সীমিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।কোন ই-রিকশা কোন রুটে চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের গ্রামীণ সড়কে চার ও ছয় যাত্রীর ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। তবে ঢাকা শহরে শুধু দুই ও চার যাত্রীর ই-রিকশা নিবন্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যান অবশ্যই অনুমোদিত প্রকৌশল নকশা অনুসরণ করে তৈরি হতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক-
কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত