Dhaka , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম :
‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমের‘ মনোনয়নে ফিল কলিন্স, ওয়েসিস, পিংক ও শাকিরা ইরানে দুই স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অর্ধ-শতাধিক পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি পাননি, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার আইভী কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান? ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা চালু বিষয়ে সুসংবাদ দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্যাক্স বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: আমির খসরু দেশজুড়ে ২০ হাজার কিমি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

টিকিট কালোবাজারি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান যাত্রীরা

  • Reporter Name
  • প্রকাশ : ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 1

আকাশ পথের ভাড়া নৈরাজ্য চলছেই

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা ফ্ল্যাশ

মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিটের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। গত তিন মাসে টিকিটের দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ওমরাহ যাত্রী, সাধারণ যাত্রী এবং প্রবাসীরা। টিকিটের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাত্রী ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রবাসীদের জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে নানা সুবিধা যোগ হলেও টিকিটের দাম বৃদ্ধির কারণে যাত্রীরা চরম অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটের টিকিটের দাম গত তিন মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিদেশ যাওয়ার এই বাড়তি খরচ প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক সংকটে ফেলেছে।

প্রবাসীরা জানান, বিদেশ থেকে আপডাউন টিকিট কাটলে যে দাম পড়ে, দেশ থেকে সিঙ্গেল টিকিটের দাম তার সমান হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়ছেন। ওমরাহ যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরম চাপে রয়েছে। কম খরচে ওমরাহ করতে চাওয়া যাত্রীরা যেমন শঙ্কিত, তেমনি প্যাকেজ তৈরি করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন এজেন্সি মালিকরা।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, ‘এয়ারলাইন্সের পলিসি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, চাহিদা বাড়লে টিকিটের দামও বাড়বে। এতে যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

বর্তমানে সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মার্চের টিকিটের দাম ৯৫ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা তিন মাস আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। জ্বালানি খরচ না বাড়লেও টিকিটের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শফিকুর রহমান জানান, ‘বিমানের ভাড়া বাড়েনি। সৌদি আরবে বিমানের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে অন্যান্য এয়ারলাইন্স ভাড়া বাড়ালে আমাদের করার কিছু নেই।’

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘শুল্ক ও ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে সরকার নিজেই টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।’

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিহাদসহ কিছু ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। তবে মূল সমস্যা হলো গ্রুপ টিকিটিং এবং কালোবাজারি। মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে একটি চক্র টিকিট কালোবাজারির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। যাত্রীদের অভিযোগ এবং স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেয়, তাহলে টিকিট কালোবাজারির সিন্ডিকেট বন্ধ হবে না।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমের‘ মনোনয়নে ফিল কলিন্স, ওয়েসিস, পিংক ও শাকিরা

টিকিট কালোবাজারি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান যাত্রীরা

প্রকাশ : ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা ফ্ল্যাশ

মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিটের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। গত তিন মাসে টিকিটের দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ওমরাহ যাত্রী, সাধারণ যাত্রী এবং প্রবাসীরা। টিকিটের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাত্রী ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রবাসীদের জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে নানা সুবিধা যোগ হলেও টিকিটের দাম বৃদ্ধির কারণে যাত্রীরা চরম অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটের টিকিটের দাম গত তিন মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিদেশ যাওয়ার এই বাড়তি খরচ প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক সংকটে ফেলেছে।

প্রবাসীরা জানান, বিদেশ থেকে আপডাউন টিকিট কাটলে যে দাম পড়ে, দেশ থেকে সিঙ্গেল টিকিটের দাম তার সমান হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়ছেন। ওমরাহ যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরম চাপে রয়েছে। কম খরচে ওমরাহ করতে চাওয়া যাত্রীরা যেমন শঙ্কিত, তেমনি প্যাকেজ তৈরি করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন এজেন্সি মালিকরা।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, ‘এয়ারলাইন্সের পলিসি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, চাহিদা বাড়লে টিকিটের দামও বাড়বে। এতে যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

বর্তমানে সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মার্চের টিকিটের দাম ৯৫ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা তিন মাস আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। জ্বালানি খরচ না বাড়লেও টিকিটের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শফিকুর রহমান জানান, ‘বিমানের ভাড়া বাড়েনি। সৌদি আরবে বিমানের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে অন্যান্য এয়ারলাইন্স ভাড়া বাড়ালে আমাদের করার কিছু নেই।’

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘শুল্ক ও ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে সরকার নিজেই টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।’

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিহাদসহ কিছু ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। তবে মূল সমস্যা হলো গ্রুপ টিকিটিং এবং কালোবাজারি। মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে একটি চক্র টিকিট কালোবাজারির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। যাত্রীদের অভিযোগ এবং স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেয়, তাহলে টিকিট কালোবাজারির সিন্ডিকেট বন্ধ হবে না।