জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তামাকের ব্যবহার কমাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব ও আসক্তি থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কার এবং কার্যকর নীতি বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সঠিক সামাজিক ও নৈতিক পথে পরিচালিত করতে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে শুধু আইন প্রণয়ন কিংবা সরকারের একক উদ্যোগে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা ও সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ।
প্রকাশ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মীর হেলাল। তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মুনাফালোভী গোষ্ঠী আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তরুণদের এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।
তিনি জানান, অসাধু উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তরুণদের জীবনযাপন ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় এখন অনেক তরুণকে গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে সময় কাটাতে দেখা যায়। আইন দিয়ে মানুষের চলাফেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তামাক চাষ কমাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষকদের সুরক্ষা দিতে এবং বিকল্প অর্থকরী ফসল চাষে তাঁদের আগ্রহী করতে পার্বত্য অঞ্চলের তামাকচাষিদের প্রণোদনা দিয়ে তুলা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রিভেন্টিভ কেয়ার জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ অকালে মারা যান। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তামাকের কারণে বছরে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। পাশাপাশি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক আখতার-উজ-জামান। সভায় ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ইয়ুথ ফোরাম এবং বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন