Dhaka , Monday, 16 March 2026

শিবালয়ে কীটনাশক ব্যবসায়ীর ভুল পরামর্শে কৃষকের তিন লাখ টাকার সর্বনাশ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি বাজারে মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্সের মালিক মজিবুর রহমান ও তার ছেলে মুরাদ হুসাইন অপুর ভুল ব্যবস্থাপনায় কীটনাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের প্রায় তিন লাখ টাকার পেঁয়াজ ও রসুন ক্ষেত নষ্ট হয়ে সর্বনাশ হয়েছে বলে জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন ভুক্তভোগী সহ স্থানীয় কৃষকরা।
ভুক্তভোগি কৃষক আমোদ আলী জানান, পার্শ্ববর্তী রৌহা গ্রামের বাসিন্দা তিনি, একই গ্রামের চকে ২০ শতাংশ জমিতে রসুন ও ২৪ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফসলের পাতা কিছুটা কালচে দেখা দিলে তিনি গত ২১ শে ফেব্রুয়ারি নয়াবাড়ি বাজারের মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্সে যান। দোকানের মালিক মজিবুর রহমান ও তার ছেলে মুরাদ হুসাইন অপু তাকে একটি বোতল ও তিন পাতার কীটনাশক একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেন।
সন্দেহ দূর করতে আমোদ আলী কীটনাশক বাড়িতে রেখে পুনরায় ওই ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে নির্দেশনার সঠিকতা যাচাই করেন। ব্যবসায়ীরা তাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে বলেন। কিন্তু তাদের কথামতো স্প্রে করার পরপরই পেঁয়াজ ও রসুন গাছ মরতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার উপক্রমে রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
তবে, নিজেদের ভূল ও গাফলতি অস্বীকার করে দোকান মালিক মজিবুর রহমানের ছেলে মুরাদ হুসাইন অপু সাংবাদিক নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, যার ফলে মুরাদ হোসেন অপুর বিরুদ্ধে ওই সাংবাদিক কোটি টাকার মানহানির মামলা করবেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্সের মালিক মজিবুর রহমান ও তার ছেলে মুরাদ হুসাইন অপু এর আগেও একই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছেন। কয়েকদিন আগেই জামাল নামে এক কৃষকের পেঁয়াজ ক্ষেতেও ভুল কীটনাশক দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। বারবার এমন অপেশাদার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে নয়াবাড়ি বাজারের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রাজার কাছে বিচার চাওয়া হলে তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তারা রোববার সরেজমিনে এসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
শিবালয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমি নিজে সেখানে যাব। এরপর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি উপ- পরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ভুক্তভোগী কৃষক আমোদ আলী ও এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র জরিমানার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই অসৎ ব্যবসায়ীর লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো কৃষককে এভাবে পথে বসতে না হয়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

শিবালয়ে কীটনাশক ব্যবসায়ীর ভুল পরামর্শে কৃষকের তিন লাখ টাকার সর্বনাশ

প্রকাশ : 03:59 pm, Sunday, 1 March 2026

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি বাজারে মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্সের মালিক মজিবুর রহমান ও তার ছেলে মুরাদ হুসাইন অপুর ভুল ব্যবস্থাপনায় কীটনাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের প্রায় তিন লাখ টাকার পেঁয়াজ ও রসুন ক্ষেত নষ্ট হয়ে সর্বনাশ হয়েছে বলে জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন ভুক্তভোগী সহ স্থানীয় কৃষকরা।
ভুক্তভোগি কৃষক আমোদ আলী জানান, পার্শ্ববর্তী রৌহা গ্রামের বাসিন্দা তিনি, একই গ্রামের চকে ২০ শতাংশ জমিতে রসুন ও ২৪ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফসলের পাতা কিছুটা কালচে দেখা দিলে তিনি গত ২১ শে ফেব্রুয়ারি নয়াবাড়ি বাজারের মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্সে যান। দোকানের মালিক মজিবুর রহমান ও তার ছেলে মুরাদ হুসাইন অপু তাকে একটি বোতল ও তিন পাতার কীটনাশক একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেন।
সন্দেহ দূর করতে আমোদ আলী কীটনাশক বাড়িতে রেখে পুনরায় ওই ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে নির্দেশনার সঠিকতা যাচাই করেন। ব্যবসায়ীরা তাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে বলেন। কিন্তু তাদের কথামতো স্প্রে করার পরপরই পেঁয়াজ ও রসুন গাছ মরতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার উপক্রমে রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
তবে, নিজেদের ভূল ও গাফলতি অস্বীকার করে দোকান মালিক মজিবুর রহমানের ছেলে মুরাদ হুসাইন অপু সাংবাদিক নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, যার ফলে মুরাদ হোসেন অপুর বিরুদ্ধে ওই সাংবাদিক কোটি টাকার মানহানির মামলা করবেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্সের মালিক মজিবুর রহমান ও তার ছেলে মুরাদ হুসাইন অপু এর আগেও একই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছেন। কয়েকদিন আগেই জামাল নামে এক কৃষকের পেঁয়াজ ক্ষেতেও ভুল কীটনাশক দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। বারবার এমন অপেশাদার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে নয়াবাড়ি বাজারের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রাজার কাছে বিচার চাওয়া হলে তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তারা রোববার সরেজমিনে এসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
শিবালয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমি নিজে সেখানে যাব। এরপর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি উপ- পরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ভুক্তভোগী কৃষক আমোদ আলী ও এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র জরিমানার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই অসৎ ব্যবসায়ীর লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো কৃষককে এভাবে পথে বসতে না হয়।