খুলনার পাইকগাছায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে গোপনে চড়া দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা পরিচালনা করলেও ভোগান্তি কমছে না সাধারণ মানুষের।
পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড পাইকগাছার একমাত্র পেট্রোল পাম্প ‘আসিফ ফিলিং স্টেশন’ বর্তমানে কার্যত অচল। পাম্পের সামনে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে এবং সাদা কাগজে লিখে রাখা হয়েছে ‘তেল নেই’। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালকরা চরম হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট ও চড়া দাম পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার, মোড় এবং গ্রামীণ এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে বোতল ও গ্যালনে পেট্রোল-অকটেন মজুদ থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ: সাধারণ গ্রাহক চাইলে “তেল নেই” বলা হচ্ছে।
বিশেষ পরিচিত ব্যক্তি বা যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিচ্ছেন, তাদের কাছে গোপনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক মানছুর রহমান জাহিদ জানান, “একাধিক দোকান ঘুরেও তেল পাইনি, পরে অন্যের মাধ্যমে বেশি দাম দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে।”
সংকটে গণপরিবহন ও জনজীবন তেল সংকটের কারণে রাস্তায় মোটরসাইকেল চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বিপাকে পড়েছেন বাস শ্রমিকরাও। তারা জানান, প্রতিদিন মাত্র ১০ লিটার করে তেল পাচ্ছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এতে যাত্রী পরিবহন সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও জরিমানা জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা রোধে মাঠে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী জানান, তেলের সংকট রয়েছে এটা সত্য, তবে কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার আগড়ঘাটা বাজারে অভিযান চালিয়ে দুই বিক্রেতাকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে খুচরা দোকানগুলো বন্ধ না রেখে খোলা রাখার এবং সাধারণ চালকদের মাঝে তেল বিক্রির কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি 