Dhaka , Sunday, 15 March 2026
মাদারীপুরে প্রবাসীর পরিবারে এক ‘ব্ল্যাকমেইলার’ নারীর তাণ্ডব

নেপথ্যে সংঘবদ্ধ চক্র, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ!

মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নে এক দুর্ধর্ষ নারী ও তার সহযোগী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এক প্রবাসীর পরিবার। বিদেশের মাটিতে ফাঁদ পেতে বিয়ে, দেশে এসে বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, থানা পুলিশকে বারবার জানানো সত্ত্বেও অদৃশ্য কোনো কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা অপরাধী চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও দীর্ঘ ১৫ বছরের সৌদি প্রবাসী সোহাগকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন জান্নাত আক্তার (৩২) নামের এক নারী। জান্নাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিড়াসাড় এলাকার আলী মিয়ার মেয়ে। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাত একজন পেশাদার ‘বিয়ে ব্যবসায়ী’, যিনি এর আগেও একাধিক স্থানে বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সোহাগ দেশে ফেরার পর থেকেই শুরু হয় জান্নাতের আসল রূপ। প্রবাসীর জমানো টাকা ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে তিনি এখন পুরো পরিবারটিকে নিশ্চিহ্ন করার মিশনে নেমেছেন।
সোহাগের প্রথম স্ত্রী সাথী আক্তার ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা বিরাসার গ্রামের মো: আলীর কন্যা বহুবিবাহের আসক্ত ডিভোর্সি নারী জান্নাত আক্তার প্রবাসীর বাড়িতে এসে সিসি ক্যামেরা, দরজা ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বৈদ্যুতিক তারে আগুন লাগিয়ে পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছেন এবং ঘরে তালা দিয়ে তাদের আটকে রেখেছেন। ভুক্তভোগী সাথী আক্তার আর্তনাদ করে বলেন, “আমরা এখন নিজ বাড়িতেই বন্দী। জান্নাত ও তার পেছনে থাকা চক্রটি আমাদের যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে। পুলিশকে জানিয়েও আমরা কোনো নিরাপত্তা পাচ্ছি না।”
এদিকে বহুবিবাহে আসক্ত নারী জান্নাত আরা পূর্বের স্বামী ও সন্তান রেখে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে সোহাগের ১৫ বছরের সংসার জীবনের স্ত্রী,ফুটফুটে একটি ছেলে ও মেয়ে, বৃদ্ধ বাবা মায়ের উপর হামলা ও অমানুষিক নির্যাতন করে খ্যান্ত থাকেন থাকেন নি, মাদারীপুর মডেল থানার পাশেই তার খালার বাড়িতে হামলা ভাংচুর সহ বৃদ্ধ খালা ও তার খালাতো বোন সুফিয়া, সুফিয়ার নাবালক শিশুর উপর শারীরিক নির্যাতন করেন।
ঘটনার পর থেকে খালাতো বোন সুফিয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবার মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একাধিকবার ধরনা দিলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না । স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী চক্র এই নারীর পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশের এই নমনীয় ভাব ও তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রিতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সোহাগের বৃদ্ধ ও হৃদরোগী পিতা আক্ষেপ করে বলেন, “পুলিশকে সব জানানোর পরও জান্নাত আক্তার প্রায় দেড় মাস ধরে দিনে রাতে প্রকাশ্যে আমাদের হুামলা ভাঙচুর সহ আমাকে, আমার স্ত্রী, আবার ছেলের বউ নাতি নাতনি কে অত্যাচার করে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী সোহাগ বলেন, বহুবিবাহে আসক্ত নারী জান্নাত আক্তারের প্রতিনিয়ত হামলা ভাঙচুর নির্যাতনের ফলে,মাদারীপুর ফাঁরি পুলিশ এবং থানা পুলিশ থেকে আইনি সহযোগিতা না পাওয়ায়, আমার একমাত্র শিশু পুত্র কে, তার মা থেকে নিকট আত্মীয় বাড়িতে রাখা হয়েছে। কখন যেন ওই বহুবিবাহে আসক্ত নারী জান্নাত আক্তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে মোটা অংকের কাবিনের টাকার লোভে আমার বৃদ্ধ বাবা মা স্ত্রী,একমাত্র কন্যা কে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সাংবাদিকদের নিকট ভুক্তভোগী প্রবাসী সোহাগ প্রশ্ন করেন, আবার পরিবার যদি বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, তাহলে পুলিশ কি ওই দায় এড়াতে পারবে?
দিচ্ছে। আমরা কি প্রশাসনের কাছে কোনো বিচার পাব না?”
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কেবল পারিবারিক বিরোধ নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত চক্রের কাজ যারা প্রবাসীদের টার্গেট করে অর্থ লুট করে। জান্নাতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা চক্রটি এখন রঘুরামপুর গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গতানুগতিক সুরে জানান, “অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অপরাধী চোখের সামনে তাণ্ডব চালালে ও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, বাদীর নাম ও ফোন নাম্বার পাঠান প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই বহুবিবাহ আসক্ত ডিভর্সি নারী ও তার নেপথ্যের কুশীলবদের গ্রেপ্তার করা না হলে যেকোনো সময় মাদারীপুরে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

মাদারীপুরে প্রবাসীর পরিবারে এক ‘ব্ল্যাকমেইলার’ নারীর তাণ্ডব

নেপথ্যে সংঘবদ্ধ চক্র, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ!

প্রকাশ : 02:50 pm, Tuesday, 3 March 2026

মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নে এক দুর্ধর্ষ নারী ও তার সহযোগী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এক প্রবাসীর পরিবার। বিদেশের মাটিতে ফাঁদ পেতে বিয়ে, দেশে এসে বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, থানা পুলিশকে বারবার জানানো সত্ত্বেও অদৃশ্য কোনো কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা অপরাধী চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও দীর্ঘ ১৫ বছরের সৌদি প্রবাসী সোহাগকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন জান্নাত আক্তার (৩২) নামের এক নারী। জান্নাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিড়াসাড় এলাকার আলী মিয়ার মেয়ে। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাত একজন পেশাদার ‘বিয়ে ব্যবসায়ী’, যিনি এর আগেও একাধিক স্থানে বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সোহাগ দেশে ফেরার পর থেকেই শুরু হয় জান্নাতের আসল রূপ। প্রবাসীর জমানো টাকা ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে তিনি এখন পুরো পরিবারটিকে নিশ্চিহ্ন করার মিশনে নেমেছেন।
সোহাগের প্রথম স্ত্রী সাথী আক্তার ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা বিরাসার গ্রামের মো: আলীর কন্যা বহুবিবাহের আসক্ত ডিভোর্সি নারী জান্নাত আক্তার প্রবাসীর বাড়িতে এসে সিসি ক্যামেরা, দরজা ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বৈদ্যুতিক তারে আগুন লাগিয়ে পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছেন এবং ঘরে তালা দিয়ে তাদের আটকে রেখেছেন। ভুক্তভোগী সাথী আক্তার আর্তনাদ করে বলেন, “আমরা এখন নিজ বাড়িতেই বন্দী। জান্নাত ও তার পেছনে থাকা চক্রটি আমাদের যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে। পুলিশকে জানিয়েও আমরা কোনো নিরাপত্তা পাচ্ছি না।”
এদিকে বহুবিবাহে আসক্ত নারী জান্নাত আরা পূর্বের স্বামী ও সন্তান রেখে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে সোহাগের ১৫ বছরের সংসার জীবনের স্ত্রী,ফুটফুটে একটি ছেলে ও মেয়ে, বৃদ্ধ বাবা মায়ের উপর হামলা ও অমানুষিক নির্যাতন করে খ্যান্ত থাকেন থাকেন নি, মাদারীপুর মডেল থানার পাশেই তার খালার বাড়িতে হামলা ভাংচুর সহ বৃদ্ধ খালা ও তার খালাতো বোন সুফিয়া, সুফিয়ার নাবালক শিশুর উপর শারীরিক নির্যাতন করেন।
ঘটনার পর থেকে খালাতো বোন সুফিয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবার মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একাধিকবার ধরনা দিলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না । স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী চক্র এই নারীর পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশের এই নমনীয় ভাব ও তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রিতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সোহাগের বৃদ্ধ ও হৃদরোগী পিতা আক্ষেপ করে বলেন, “পুলিশকে সব জানানোর পরও জান্নাত আক্তার প্রায় দেড় মাস ধরে দিনে রাতে প্রকাশ্যে আমাদের হুামলা ভাঙচুর সহ আমাকে, আমার স্ত্রী, আবার ছেলের বউ নাতি নাতনি কে অত্যাচার করে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী সোহাগ বলেন, বহুবিবাহে আসক্ত নারী জান্নাত আক্তারের প্রতিনিয়ত হামলা ভাঙচুর নির্যাতনের ফলে,মাদারীপুর ফাঁরি পুলিশ এবং থানা পুলিশ থেকে আইনি সহযোগিতা না পাওয়ায়, আমার একমাত্র শিশু পুত্র কে, তার মা থেকে নিকট আত্মীয় বাড়িতে রাখা হয়েছে। কখন যেন ওই বহুবিবাহে আসক্ত নারী জান্নাত আক্তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে মোটা অংকের কাবিনের টাকার লোভে আমার বৃদ্ধ বাবা মা স্ত্রী,একমাত্র কন্যা কে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সাংবাদিকদের নিকট ভুক্তভোগী প্রবাসী সোহাগ প্রশ্ন করেন, আবার পরিবার যদি বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, তাহলে পুলিশ কি ওই দায় এড়াতে পারবে?
দিচ্ছে। আমরা কি প্রশাসনের কাছে কোনো বিচার পাব না?”
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কেবল পারিবারিক বিরোধ নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত চক্রের কাজ যারা প্রবাসীদের টার্গেট করে অর্থ লুট করে। জান্নাতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা চক্রটি এখন রঘুরামপুর গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গতানুগতিক সুরে জানান, “অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অপরাধী চোখের সামনে তাণ্ডব চালালে ও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, বাদীর নাম ও ফোন নাম্বার পাঠান প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই বহুবিবাহ আসক্ত ডিভর্সি নারী ও তার নেপথ্যের কুশীলবদের গ্রেপ্তার করা না হলে যেকোনো সময় মাদারীপুরে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।