Dhaka , Monday, 16 March 2026

ত্রিশালে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের নামে ১৯৯৫ সালে ভূমি অধিগ্রহণকৃত হোল্ডিং মতে গেজেট প্রকাশ করেন।
সেই ভূমি হুকুম দখল শাখার ৮৮৮ স্মারকে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পাশে সংরক্ষিত জমি খনন করে মাটি কেটে নিয়ে গিয়েছে উপজেলার ২নং বৈলর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল। এ সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরজমিন দেখতে গেলে স্থানীয় নজরুল ইসলাম, আবু কাওসার, সাজেদা বেগম ও এমদাদুল হক বলেন, তিনি এ এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পাশে ৮ শতাংশ সংরক্ষিত জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এই তো দুই দিন আগে অফিসের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। সে অনেক ক্ষমতাবান বলে কি এ ভাবে সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিবে?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান মুকুলের ব্যবহিত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ দেখায়।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ- সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আমাদের সরকারি অফিস ও গুদামঘর নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৩০ শতাংশ জমি গেজেট আকারে করে দিয়েছেন। সেই গেজেট মুলে আমরা এ জমিটা দখলে আছি এবং ব্যবহার করছি। আমাদের প্রতিবেশী বৈলর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল তিনি এখন এ জমিতে খুঁটি দিয়ে বেড়া দিচ্ছেন। এর কয়েক বছর আগেও তিনি এ জমি দখল করতে চেয়েছিলেন। তখনকার সময়ের আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তা ভেঙ্গে দিয়ে দখল মুক্ত করে ছিলেন। এখন আবার তিনি এ জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। উনারা কি ব্যবস্থা নিবেন আমরা সে অপেক্ষায় আছি।
ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। উভয়পক্ষের জমির কাগজপত্র দেখে মালিকানা ও সীমানা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাধ্যমে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

ত্রিশালে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

প্রকাশ : 04:29 pm, Monday, 2 February 2026

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের নামে ১৯৯৫ সালে ভূমি অধিগ্রহণকৃত হোল্ডিং মতে গেজেট প্রকাশ করেন।
সেই ভূমি হুকুম দখল শাখার ৮৮৮ স্মারকে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পাশে সংরক্ষিত জমি খনন করে মাটি কেটে নিয়ে গিয়েছে উপজেলার ২নং বৈলর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল। এ সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরজমিন দেখতে গেলে স্থানীয় নজরুল ইসলাম, আবু কাওসার, সাজেদা বেগম ও এমদাদুল হক বলেন, তিনি এ এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পাশে ৮ শতাংশ সংরক্ষিত জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এই তো দুই দিন আগে অফিসের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। সে অনেক ক্ষমতাবান বলে কি এ ভাবে সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিবে?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান মুকুলের ব্যবহিত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ দেখায়।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ- সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আমাদের সরকারি অফিস ও গুদামঘর নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৩০ শতাংশ জমি গেজেট আকারে করে দিয়েছেন। সেই গেজেট মুলে আমরা এ জমিটা দখলে আছি এবং ব্যবহার করছি। আমাদের প্রতিবেশী বৈলর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল তিনি এখন এ জমিতে খুঁটি দিয়ে বেড়া দিচ্ছেন। এর কয়েক বছর আগেও তিনি এ জমি দখল করতে চেয়েছিলেন। তখনকার সময়ের আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তা ভেঙ্গে দিয়ে দখল মুক্ত করে ছিলেন। এখন আবার তিনি এ জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। উনারা কি ব্যবস্থা নিবেন আমরা সে অপেক্ষায় আছি।
ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। উভয়পক্ষের জমির কাগজপত্র দেখে মালিকানা ও সীমানা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাধ্যমে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।