Dhaka , Monday, 16 March 2026
টেকনাফে শিশু হুজাইফা গুলিবিদ্ধ

হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস, এলাকায় শোক ও নিরাপত্তার দাবি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় মায়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনান (৯) আর নেই। আজ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এর আগে গত ১০ জানুয়ারি নাফ নদী সংলগ্ন হোয়াইক্যং বিজিবি পোস্টের বিপরীতে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মায়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশের ভেতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার অতিক্রম করে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড লম্বাবিল তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় শিশু হুজাইফা আফনানের মাথায় আঘাত হানে। এতে সে গুরুতর আহত হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অবশেষে আজ সকালে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত শিশুর পরিচয়—
নাম: হুজাইফা আফনান (৯) পিতা: জসিম উদ্দিন মাতা: সুমাইয়া আক্তার
ঠিকানা: লম্বাবিল তেচ্ছি ব্রিজ, ৩নং ওয়ার্ড, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজার।
সে লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোচন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় একের পর এক গুলি এসে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পড়তে থাকে। এতে গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ড্রোনের মাধ্যমেও হামলা চালিয়েছে।এলাকাবাসী আরও জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। প্রায় এক মাস আগেও একই লম্বাবিল এলাকায় মায়ানমার দিক থেকে ছুটে আসা গুলিতে এক নারী বাসিন্দা আহত হন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। তারা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি তোলে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিজিবির একটি গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও এপিবিএনের যৌথ তৎপরতায় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।শিশু হুজাইফা আফনানের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

টেকনাফে শিশু হুজাইফা গুলিবিদ্ধ

হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস, এলাকায় শোক ও নিরাপত্তার দাবি

প্রকাশ : 04:45 pm, Saturday, 7 February 2026

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় মায়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনান (৯) আর নেই। আজ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এর আগে গত ১০ জানুয়ারি নাফ নদী সংলগ্ন হোয়াইক্যং বিজিবি পোস্টের বিপরীতে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মায়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশের ভেতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার অতিক্রম করে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড লম্বাবিল তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় শিশু হুজাইফা আফনানের মাথায় আঘাত হানে। এতে সে গুরুতর আহত হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অবশেষে আজ সকালে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত শিশুর পরিচয়—
নাম: হুজাইফা আফনান (৯) পিতা: জসিম উদ্দিন মাতা: সুমাইয়া আক্তার
ঠিকানা: লম্বাবিল তেচ্ছি ব্রিজ, ৩নং ওয়ার্ড, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজার।
সে লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোচন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় একের পর এক গুলি এসে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পড়তে থাকে। এতে গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ড্রোনের মাধ্যমেও হামলা চালিয়েছে।এলাকাবাসী আরও জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। প্রায় এক মাস আগেও একই লম্বাবিল এলাকায় মায়ানমার দিক থেকে ছুটে আসা গুলিতে এক নারী বাসিন্দা আহত হন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। তারা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি তোলে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিজিবির একটি গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও এপিবিএনের যৌথ তৎপরতায় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।শিশু হুজাইফা আফনানের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।