Dhaka , Monday, 16 March 2026

মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে এমপিদের দৌড়ঝাঁপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে হাতে গোনা কয়েকদিনের মধ্যেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। নতুন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি শরিক দলের নেতারাও পিছিয়ে নেই। মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে চলছে লবিং-তদ্বির। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থা জয় করে মন্ত্রিসভার তালিকায় নিজের নাম যোগ করা যায় কি না, এ চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের বাসা ও কার্যালয়ে গিয়েও চলছে তদ্বির। শীর্ষ ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যস্থতায় চেয়ারম্যানের আস্থা মেলে কি না, এ চেষ্টায় অনেকে ত্রুটি রাখছেন না। অনেকে নতুন সরকারের কেবিনেটে মন্ত্রিত্ব পেতে দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন। বিগত সময়ে বিতর্ক জন্ম দেওয়া জয়ী সাংসদরাও বসে নেই। তবে বির্তকিতদের এবার কপাল পোড়ার আশঙ্কাই বেশি।
বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পর দল থেকে জয়ীরা বেশিরভাগই নিজের সংসদীয় এলাকা ছেড়ে এখন ঢাকামুখী। বিশেষ করে, নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ সামনে রেখে ঢাকায় ফিরেছেন। করছেন দৌড়ঝাঁপ। অবশ্য গতকাল শনিবার রাতেই তা চূড়ান্ত হয়। ঢাকায় ফিরে অনেকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়ে এসে তুলে ধরেছেন মন্ত্রিত্ব পেলে একাগ্রচিত্ত, দূরদর্শিতা ও উন্নয়ন রাজনীতির দর্শনে একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি।
সবাই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। আবার অনেকেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে আগ্রহী হলেও তাদের ঠাঁই হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার সময়ও তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এ বিষয়ে। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারী নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবার মন্ত্রিসভার আকার বর্তমানের তুলনায় বাড়তে পারে বলে কেবিনেট সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নতুন সরকার হচ্ছে। সূত্র জানায়, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন। পুরনোদের মধ্যে কার কার কপাল পুড়ছে আর কারা থাকছেন, আবার নতুন করেই বা কারা আসছেন, কে পাচ্ছেন কোন দফতর এমন নানা প্রশ্ন এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন আর বাদ যাচ্ছেন, তা একান্তই দলের চেয়ারম্যানের এখতিয়ার। তিনি যাদের চাইবেন, তাদেরই জায়গা হবে নতুন মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রী ও তার দফতরই নির্ধারণ করবে কবে কখন ও কাদেরকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। সংবিধানই এ ক্ষমতা নিশ্চিত করে।
এদিকে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ফলে মূল দৌড়ঝাঁপ চেয়ারম্যানের কার্যালয়। তবে নতুন কে কে মন্ত্রী হচ্ছেন আর কারা ছিটকে পড়ছেন বিষয়গুলো এখনো স্পষ্ট নয়। তেমনই দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত যে কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার চেষ্টারও সমালোচনা করতে আগ্রহী নন শীর্ষ নেতারা। তাদের মতে, মন্ত্রিত্ব পাওয়ার চেষ্টা যে কেউ করতেই পারেন।
দলীয় সূত্র মতে, দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে। ড. আব্দুল মঈন খানকে স্পিকার, মির্জা আব্বাসকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বাণিজ্য এবং এএনএম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামও মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য হিসেবে ঘুরছে। স্থায়ী কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন মুখের সংযোজন হিসেবে মন্ত্রিসভায় একাধিক মুখ যুক্ত হতে পারেন। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী (তথ্য ও সম্প্রচার-টেকনোক্র্যাট কোটায়), ইসমাইল জাবিউল্লাহ (জনপ্রশাসন-টেকনোক্র্যাট), শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি (প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র) এবং হুমায়ুন কবির (চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র টেকনোক্র্যাট)। ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা আগে থেকেই দিয়েছিল বিএনপি। সেই অনুযায়ী শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় রাখা হবে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি), নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ), ড. রেজা কিবরিয়া (অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং ১২ দলীয় জোটপ্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার (টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনায়)।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে এমপিদের দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশ : 10:44 pm, Saturday, 14 February 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে হাতে গোনা কয়েকদিনের মধ্যেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। নতুন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি শরিক দলের নেতারাও পিছিয়ে নেই। মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে চলছে লবিং-তদ্বির। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থা জয় করে মন্ত্রিসভার তালিকায় নিজের নাম যোগ করা যায় কি না, এ চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের বাসা ও কার্যালয়ে গিয়েও চলছে তদ্বির। শীর্ষ ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যস্থতায় চেয়ারম্যানের আস্থা মেলে কি না, এ চেষ্টায় অনেকে ত্রুটি রাখছেন না। অনেকে নতুন সরকারের কেবিনেটে মন্ত্রিত্ব পেতে দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন। বিগত সময়ে বিতর্ক জন্ম দেওয়া জয়ী সাংসদরাও বসে নেই। তবে বির্তকিতদের এবার কপাল পোড়ার আশঙ্কাই বেশি।
বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পর দল থেকে জয়ীরা বেশিরভাগই নিজের সংসদীয় এলাকা ছেড়ে এখন ঢাকামুখী। বিশেষ করে, নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ সামনে রেখে ঢাকায় ফিরেছেন। করছেন দৌড়ঝাঁপ। অবশ্য গতকাল শনিবার রাতেই তা চূড়ান্ত হয়। ঢাকায় ফিরে অনেকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়ে এসে তুলে ধরেছেন মন্ত্রিত্ব পেলে একাগ্রচিত্ত, দূরদর্শিতা ও উন্নয়ন রাজনীতির দর্শনে একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি।
সবাই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। আবার অনেকেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে আগ্রহী হলেও তাদের ঠাঁই হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার সময়ও তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এ বিষয়ে। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারী নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবার মন্ত্রিসভার আকার বর্তমানের তুলনায় বাড়তে পারে বলে কেবিনেট সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নতুন সরকার হচ্ছে। সূত্র জানায়, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন। পুরনোদের মধ্যে কার কার কপাল পুড়ছে আর কারা থাকছেন, আবার নতুন করেই বা কারা আসছেন, কে পাচ্ছেন কোন দফতর এমন নানা প্রশ্ন এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন আর বাদ যাচ্ছেন, তা একান্তই দলের চেয়ারম্যানের এখতিয়ার। তিনি যাদের চাইবেন, তাদেরই জায়গা হবে নতুন মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রী ও তার দফতরই নির্ধারণ করবে কবে কখন ও কাদেরকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। সংবিধানই এ ক্ষমতা নিশ্চিত করে।
এদিকে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ফলে মূল দৌড়ঝাঁপ চেয়ারম্যানের কার্যালয়। তবে নতুন কে কে মন্ত্রী হচ্ছেন আর কারা ছিটকে পড়ছেন বিষয়গুলো এখনো স্পষ্ট নয়। তেমনই দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত যে কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার চেষ্টারও সমালোচনা করতে আগ্রহী নন শীর্ষ নেতারা। তাদের মতে, মন্ত্রিত্ব পাওয়ার চেষ্টা যে কেউ করতেই পারেন।
দলীয় সূত্র মতে, দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে। ড. আব্দুল মঈন খানকে স্পিকার, মির্জা আব্বাসকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বাণিজ্য এবং এএনএম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামও মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য হিসেবে ঘুরছে। স্থায়ী কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন মুখের সংযোজন হিসেবে মন্ত্রিসভায় একাধিক মুখ যুক্ত হতে পারেন। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী (তথ্য ও সম্প্রচার-টেকনোক্র্যাট কোটায়), ইসমাইল জাবিউল্লাহ (জনপ্রশাসন-টেকনোক্র্যাট), শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি (প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র) এবং হুমায়ুন কবির (চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র টেকনোক্র্যাট)। ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা আগে থেকেই দিয়েছিল বিএনপি। সেই অনুযায়ী শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় রাখা হবে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি), নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ), ড. রেজা কিবরিয়া (অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং ১২ দলীয় জোটপ্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার (টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনায়)।