Dhaka , Monday, 16 March 2026
 পদ্মাসেতুর দক্ষিণ অংশে পুলিশ নির্বিকার

ঢাকা-শরিয়তপুর মহাসড়কে যুবদলের নামে চাঁদাবাজি

ঢাকা শরিয়তপুর মহাসড়কের নাওডোবা এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এ চাঁদাবাজিতে স্থানীয় যুবদলের নেতা কর্মী ও মাদকসেবী এবং স্থানীয় সাংবাদিক নামধারী কিছু লোক জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিন থানায় মামলা দায়ের হলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তরা হচ্ছে, নাওডোবা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে তপু ঢালী, পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. বাদশা শেখ, ঢালি কান্দি বাসিন্দা সুমন, জাহিদ, সাংবাদিক নামধারী পলাশ ও শাওন। মামলার দায়েরের দীর্ঘ দিনেও পুলিশ স্থানীয় চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট চাঁদাবাজদের গ্রেফতার না করার কারণে সংশ্লিষ্টরা ঢাকা ভাঙ্গা শরিয়তপুর এবং ফরিদপুর মহাসড়কে পরিবহন ওব্যবসা-প্রতিষ্ঠনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতবছর ১৫ মার্চ রাতে পিকআপ চালক হৃদয় খান তার পিকআপ করে জাজিরা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন পদ্মাসেতু দক্ষিন থানার অধীনে সিনো-হাইড্রো কোম্পানীর মালামাল নিয়ে ঢাকায় রওয়ানা হয়। পিকআপটি পদ্মা সেতুর দক্ষিন টোলপ্লাজার কাছাকাছি পৌঁছালে তপু ও বাদশার নির্দেশে উল্লেখিতরা মাল বোঝাই পিকআপ আটক করে। তারা চালক হৃদয় খানকে হুমকি ও ৩ লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি চালক তার কোম্পানীর লোকজনকে জানালে চাঁদাবাজরা ক্ষিপ্ত হয়ে চালককে মারধর এবং দ্রুত টাকা আনার জন্য তাগিদ দেয়। চাঁদাবাজরা দেরি দেখে মাল বোঝাই পিকআপ হাইওয়ে থেকে প্রায় এককিলোমিটার দুরে ফাঁকা স্থানে নিয়ে আটক রাখে। জখম অবস্থায় চালক তার সিনো হাইড্রো কোম্পানীর প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করে। দীর্ঘক্ষন পর কোম্পানীর লোকজন স্থানীয় ক্যান্টনমেন্টের সেনাবাহিনীর টীম নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকলে চাঁদাবাজরা টের পেয়ে তাদের ব্যবহৃত মটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। যার নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ল- ২৯-৯৭৪৫। যা থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সেনা সদস্যরা আহতাবস্থায় চালক হৃদয় খানকে উদ্ধার এবং পিকআপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আহত চালককে শরিয়তপুর জাজিরা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়ার পর থানায় মামলা দায়ের হয়। পদ্মা সেতু দক্ষিন থানার মামলা নম্বর হচ্ছে, ১৩, তারিখ হচ্ছে ১৬/০৩/২০২৫। ধারা হচ্ছে ১৪৩, ৩৪১,৩২৩,৩৬৪, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উল্লেখিকরা এলাকার চিহিৃত চাঁদাবাজ। এরা শরিয়তপুর জাজিরা , ভাঙ্গা এবং নাওডোবা এলাকায় সড়ক মহাসড়কে পরিবহন, ট্রাক, পিকআপ ছাড়াও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে এ সকল অনৈতিক কাজ করছে। বিএনপি, যুবদল সেচ্ছসেবকদলের নেতাকর্মী হয়ে চাঁদাবাজি করায় স্থানীয় জেলা থানা ইউনিয়ন পর্যায়ে সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এ সকল কাজের প্রভাব পড়ছে এলাকার হাট বাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী সেক্টরে। এদেরকে গ্রেফতার এবং চাঁদাবাজি বন্ধে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি রাখছে। প্রশাসন যদি এতে ব্যর্থ হয়, তা হলে চাঁদাবাজি বন্ধে মহাসড়ক অবরোধ এবং মানবন্ধনের চেয়েও কঠোর কর্মসূচী পালন করা হবে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় লোকজন।
এবিষয়ে স্থানীয় নাওডোবা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে তপু ঢালী মুঠোফোনে বলেন, তিনি এ সকল অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত নয়। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকার একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে।
অপরদিকে স্থানীয় পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. বাদশা শেখ মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি এ সকল চাদাবাজিতে জড়িত নয়। এলাকার বিরোধে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে চাদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ভুল বুঝাবুঝির জন্য এমনটি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তবে মীমাংসার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় এবিষয়ে পদ্মাসেতু দক্ষিন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কবির হোসেন জানান, সম্প্রতি এই চাদাবাজির মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

 পদ্মাসেতুর দক্ষিণ অংশে পুলিশ নির্বিকার

ঢাকা-শরিয়তপুর মহাসড়কে যুবদলের নামে চাঁদাবাজি

প্রকাশ : 10:47 pm, Saturday, 28 February 2026

ঢাকা শরিয়তপুর মহাসড়কের নাওডোবা এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এ চাঁদাবাজিতে স্থানীয় যুবদলের নেতা কর্মী ও মাদকসেবী এবং স্থানীয় সাংবাদিক নামধারী কিছু লোক জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিন থানায় মামলা দায়ের হলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তরা হচ্ছে, নাওডোবা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে তপু ঢালী, পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. বাদশা শেখ, ঢালি কান্দি বাসিন্দা সুমন, জাহিদ, সাংবাদিক নামধারী পলাশ ও শাওন। মামলার দায়েরের দীর্ঘ দিনেও পুলিশ স্থানীয় চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট চাঁদাবাজদের গ্রেফতার না করার কারণে সংশ্লিষ্টরা ঢাকা ভাঙ্গা শরিয়তপুর এবং ফরিদপুর মহাসড়কে পরিবহন ওব্যবসা-প্রতিষ্ঠনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতবছর ১৫ মার্চ রাতে পিকআপ চালক হৃদয় খান তার পিকআপ করে জাজিরা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন পদ্মাসেতু দক্ষিন থানার অধীনে সিনো-হাইড্রো কোম্পানীর মালামাল নিয়ে ঢাকায় রওয়ানা হয়। পিকআপটি পদ্মা সেতুর দক্ষিন টোলপ্লাজার কাছাকাছি পৌঁছালে তপু ও বাদশার নির্দেশে উল্লেখিতরা মাল বোঝাই পিকআপ আটক করে। তারা চালক হৃদয় খানকে হুমকি ও ৩ লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি চালক তার কোম্পানীর লোকজনকে জানালে চাঁদাবাজরা ক্ষিপ্ত হয়ে চালককে মারধর এবং দ্রুত টাকা আনার জন্য তাগিদ দেয়। চাঁদাবাজরা দেরি দেখে মাল বোঝাই পিকআপ হাইওয়ে থেকে প্রায় এককিলোমিটার দুরে ফাঁকা স্থানে নিয়ে আটক রাখে। জখম অবস্থায় চালক তার সিনো হাইড্রো কোম্পানীর প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করে। দীর্ঘক্ষন পর কোম্পানীর লোকজন স্থানীয় ক্যান্টনমেন্টের সেনাবাহিনীর টীম নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকলে চাঁদাবাজরা টের পেয়ে তাদের ব্যবহৃত মটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। যার নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ল- ২৯-৯৭৪৫। যা থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সেনা সদস্যরা আহতাবস্থায় চালক হৃদয় খানকে উদ্ধার এবং পিকআপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আহত চালককে শরিয়তপুর জাজিরা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়ার পর থানায় মামলা দায়ের হয়। পদ্মা সেতু দক্ষিন থানার মামলা নম্বর হচ্ছে, ১৩, তারিখ হচ্ছে ১৬/০৩/২০২৫। ধারা হচ্ছে ১৪৩, ৩৪১,৩২৩,৩৬৪, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উল্লেখিকরা এলাকার চিহিৃত চাঁদাবাজ। এরা শরিয়তপুর জাজিরা , ভাঙ্গা এবং নাওডোবা এলাকায় সড়ক মহাসড়কে পরিবহন, ট্রাক, পিকআপ ছাড়াও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে এ সকল অনৈতিক কাজ করছে। বিএনপি, যুবদল সেচ্ছসেবকদলের নেতাকর্মী হয়ে চাঁদাবাজি করায় স্থানীয় জেলা থানা ইউনিয়ন পর্যায়ে সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এ সকল কাজের প্রভাব পড়ছে এলাকার হাট বাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী সেক্টরে। এদেরকে গ্রেফতার এবং চাঁদাবাজি বন্ধে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি রাখছে। প্রশাসন যদি এতে ব্যর্থ হয়, তা হলে চাঁদাবাজি বন্ধে মহাসড়ক অবরোধ এবং মানবন্ধনের চেয়েও কঠোর কর্মসূচী পালন করা হবে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় লোকজন।
এবিষয়ে স্থানীয় নাওডোবা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে তপু ঢালী মুঠোফোনে বলেন, তিনি এ সকল অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত নয়। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকার একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে।
অপরদিকে স্থানীয় পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. বাদশা শেখ মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি এ সকল চাদাবাজিতে জড়িত নয়। এলাকার বিরোধে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে চাদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ভুল বুঝাবুঝির জন্য এমনটি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তবে মীমাংসার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় এবিষয়ে পদ্মাসেতু দক্ষিন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কবির হোসেন জানান, সম্প্রতি এই চাদাবাজির মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।