Dhaka , Monday, 16 March 2026
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলা # মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোসহ ইসরায়েলে ইরানের পাল্টা হামলা

বোমায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহুদিনের উত্তেজনা সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলায় একের পর এক আঘাত হানছে উভয় পক্ষ। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গতকাল শনিবার ভোরে শুরু ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। এই হামলায় ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ এ অভিযানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে রাজধানী তেহরানে। তেহরানে এখন পর্যন্ত ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়, পরমাণু সংস্থা ও পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো মূলত নিরাপত্তা ও সামরিক সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এছাড়া ইরানের কোম, খোররামাবাদ, ইসপাহান, তাবরিজ ও লোরেস্তানে হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলায় ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও শীর্ষ সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। ইসরাইল এই হামলার নাম দিয়েছে ‘লায়ন’স রোর’। নামটি ঠিক করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার নাম দিয়েছে ‘শিল্ড অব যুদাহ’ যেটাকে হিব্রুতে মাজেন ইয়েহুদা বলা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানকে লক্ষ্য করে আইডিএফ যে অভিযান চালিয়েছিল, তার নাম ছিল ‘রাইজিং লায়ন’।
হামলার পর এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেছেন, আগাম বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে থাকা হুমকি দূর করতে ইসরাইল আগাম হামলা চালিয়েছে। ক্যাটজ আরও জানান, এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে। এদিকে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরাইল সারাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে, যাতে জনগণ সতর্ক থাকতে পারে।
জবাবে ইরানও শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশে বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ৪০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনহাব শহরে এ হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়। আর ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা ফার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ঘটনাস্থলে থাকা আল-জাজিরার প্রতিবেদক বলেন, শহরটিতে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা সেয়েদ খান্দানেও বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরানের অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশসহ দেশজুড়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ও পারচিন সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ‘নৃশংস অভিযান’ উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলার মধ্যে এ হামলা হয়েছে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে পরিষদ লিখেছে, ‘আবারও আলোচনা চলমান অবস্থায় হামলা হলো। শত্রুপক্ষ ভেবেছিল, এমন ভীরুচিত্তের হামলার মধ্য দিয়ে তারা সহনশীল ইরানি জাতিকে তাদের অপ্রয়োজনীয় দাবিদাওয়াগুলো মানতে বাধ্য করতে পারবে। ইরানে হামলার পরপরই পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছিল ইসরায়েল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলি বাহিনী কাজ করছিল। তবে এর মধ্যেই দেশটির উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতেও বিস্ফোরণ হয়েছে। এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্থাপনা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো এখন বৈধ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে। এই আগ্রাসনের পর আর কোনো লাল রেখা থাকছে না।
ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কাতারে আল-উদিদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতে আল-সালেম বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আল-দারফা বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটে হামলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। আবুধাবিতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
উপসাগরীয় এসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ হামলাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তারা। উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানের হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা চলতে থাকলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার জন্য ইরানকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রয়টার্সকে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ ও সমুদ্র থেকে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, খামেনি তেহরানে নেই এবং তাঁকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলি এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কয়েক মাস ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হামলার তারিখ কয়েক সপ্তাহ আগেই ঠিক করা হয়েছিল।

 

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলা # মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোসহ ইসরায়েলে ইরানের পাল্টা হামলা

বোমায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

প্রকাশ : 10:52 pm, Saturday, 28 February 2026

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহুদিনের উত্তেজনা সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলায় একের পর এক আঘাত হানছে উভয় পক্ষ। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গতকাল শনিবার ভোরে শুরু ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। এই হামলায় ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ এ অভিযানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে রাজধানী তেহরানে। তেহরানে এখন পর্যন্ত ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়, পরমাণু সংস্থা ও পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো মূলত নিরাপত্তা ও সামরিক সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এছাড়া ইরানের কোম, খোররামাবাদ, ইসপাহান, তাবরিজ ও লোরেস্তানে হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলায় ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও শীর্ষ সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। ইসরাইল এই হামলার নাম দিয়েছে ‘লায়ন’স রোর’। নামটি ঠিক করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার নাম দিয়েছে ‘শিল্ড অব যুদাহ’ যেটাকে হিব্রুতে মাজেন ইয়েহুদা বলা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানকে লক্ষ্য করে আইডিএফ যে অভিযান চালিয়েছিল, তার নাম ছিল ‘রাইজিং লায়ন’।
হামলার পর এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেছেন, আগাম বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে থাকা হুমকি দূর করতে ইসরাইল আগাম হামলা চালিয়েছে। ক্যাটজ আরও জানান, এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে। এদিকে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরাইল সারাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে, যাতে জনগণ সতর্ক থাকতে পারে।
জবাবে ইরানও শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশে বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ৪০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনহাব শহরে এ হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়। আর ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা ফার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ঘটনাস্থলে থাকা আল-জাজিরার প্রতিবেদক বলেন, শহরটিতে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা সেয়েদ খান্দানেও বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরানের অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশসহ দেশজুড়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ও পারচিন সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ‘নৃশংস অভিযান’ উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলার মধ্যে এ হামলা হয়েছে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে পরিষদ লিখেছে, ‘আবারও আলোচনা চলমান অবস্থায় হামলা হলো। শত্রুপক্ষ ভেবেছিল, এমন ভীরুচিত্তের হামলার মধ্য দিয়ে তারা সহনশীল ইরানি জাতিকে তাদের অপ্রয়োজনীয় দাবিদাওয়াগুলো মানতে বাধ্য করতে পারবে। ইরানে হামলার পরপরই পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছিল ইসরায়েল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলি বাহিনী কাজ করছিল। তবে এর মধ্যেই দেশটির উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতেও বিস্ফোরণ হয়েছে। এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্থাপনা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো এখন বৈধ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে। এই আগ্রাসনের পর আর কোনো লাল রেখা থাকছে না।
ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কাতারে আল-উদিদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতে আল-সালেম বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আল-দারফা বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটে হামলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। আবুধাবিতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
উপসাগরীয় এসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ হামলাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তারা। উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানের হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা চলতে থাকলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার জন্য ইরানকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রয়টার্সকে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ ও সমুদ্র থেকে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, খামেনি তেহরানে নেই এবং তাঁকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলি এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কয়েক মাস ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হামলার তারিখ কয়েক সপ্তাহ আগেই ঠিক করা হয়েছিল।