Dhaka , Monday, 16 March 2026

ব্যবসায় নেই প্রত্যাশিত গতি

জুলাই অভুত্থান তার পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের যেসব কারখানা ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, দেড় বছর পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রও তৈরি হয়নি।
এদিকে সরকারের পট পরিবর্তনের পর থেকে অনেক ব্যবসায়ী এখনো পলাতক। তাদের কারখানাগুলোও অচল। দেশে থাকা অনেক ব্যবসায়ীই মামলাসহ নানান হয়রানির মধ্যে ঘোরপাক খাচ্ছেন। এর সঙ্গে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। ডলারের অতি মূল্যায়ন তো রয়েছেই। চলমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যয় বাড়িয়েছে অনেক গুণ। ফলে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে এখনো দুর্দিন কাটেনি। সবেমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলো। নতুন সরকার সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়ে মসনদে বসেছেন। কিন্তু অনিশ্চয়তা কাটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ও তেমনটা উন্নতি হয়নি। চলছে মারামারি ও হানাহানি। সব নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায়।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের। এর সঙ্গে শাকসবজি, মাছ, হিমায়িত খাদ্য, অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিও কমেছে। দেশের ভিতরেও ব্যবসার গতি কমেছে। শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৫ বছরটি ছিল টিকে থাকার লড়াই।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সবেমাত্র জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্বও নিয়েছে। নির্বাচিত সরকার অর্থনীতির এই অচলাবস্থা কাটানোর প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশায় অনেকেই লোকসান দিয়ে হলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখছেন।
দুঃখ-কষ্টে থাকা ব্যবসায়িরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাইরেও বেসরকারি খাতে নানা কাঠামোগত সমস্যায় তারা জর্জরিত। উচ্চ সুদহার ও কঠোর ঋণনীতির কারণে বিনিয়োগ ব্যয় বেড়েছে। এক বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। সেই অনুপাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় পণ্যের বিক্রি কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। তবে অস্থিরতা অনেকটা কমেছে। কিন্তু এখনো স্থিতিশীল বলা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর শেষে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.২৩ শতাংশ, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। যে কারণে মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার ২০২৫ সালে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। যা শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা বাড়তে পারে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

ব্যবসায় নেই প্রত্যাশিত গতি

প্রকাশ : 11:44 pm, Tuesday, 10 March 2026

জুলাই অভুত্থান তার পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের যেসব কারখানা ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, দেড় বছর পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রও তৈরি হয়নি।
এদিকে সরকারের পট পরিবর্তনের পর থেকে অনেক ব্যবসায়ী এখনো পলাতক। তাদের কারখানাগুলোও অচল। দেশে থাকা অনেক ব্যবসায়ীই মামলাসহ নানান হয়রানির মধ্যে ঘোরপাক খাচ্ছেন। এর সঙ্গে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। ডলারের অতি মূল্যায়ন তো রয়েছেই। চলমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যয় বাড়িয়েছে অনেক গুণ। ফলে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে এখনো দুর্দিন কাটেনি। সবেমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলো। নতুন সরকার সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়ে মসনদে বসেছেন। কিন্তু অনিশ্চয়তা কাটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ও তেমনটা উন্নতি হয়নি। চলছে মারামারি ও হানাহানি। সব নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায়।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের। এর সঙ্গে শাকসবজি, মাছ, হিমায়িত খাদ্য, অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিও কমেছে। দেশের ভিতরেও ব্যবসার গতি কমেছে। শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৫ বছরটি ছিল টিকে থাকার লড়াই।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সবেমাত্র জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্বও নিয়েছে। নির্বাচিত সরকার অর্থনীতির এই অচলাবস্থা কাটানোর প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশায় অনেকেই লোকসান দিয়ে হলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখছেন।
দুঃখ-কষ্টে থাকা ব্যবসায়িরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাইরেও বেসরকারি খাতে নানা কাঠামোগত সমস্যায় তারা জর্জরিত। উচ্চ সুদহার ও কঠোর ঋণনীতির কারণে বিনিয়োগ ব্যয় বেড়েছে। এক বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। সেই অনুপাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় পণ্যের বিক্রি কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। তবে অস্থিরতা অনেকটা কমেছে। কিন্তু এখনো স্থিতিশীল বলা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর শেষে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.২৩ শতাংশ, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। যে কারণে মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার ২০২৫ সালে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। যা শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা বাড়তে পারে।