Dhaka , Monday, 16 March 2026

শিবালয়ে ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে তদন্তের দাবি

মানিকগঞ্জ জেলা শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়ন ভূমি সহকারি নায়েব হেনা আক্তারের ঘুষ দুর্নীতির অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।ঘুষ নিয়ে খারিজের প্রস্তাব, তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো তার যেন নেশা- পেশা সমানতালে চলছে।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন বাসাইল মৌজার ২৬ শতাংশ জমি খারিজের প্রস্তাব পাঠাতে ১৫০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নেন নায়েব হেনা আক্তার। আবার একই জমির তদন্ত রিপোর্ট পাঠাতে ৪০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে ইশারায় ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্টের জন্য ২ লক্ষ টাকা না দেওয়ায়, আর এস রেকর্ড সহ জমির দখলে থাকা সত্ত্বেও, মিথ্যা প্রতিবেদন রিপোর্ট দিয়ে আমাকে ব্যাপক হয়রানি করছেন, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তদন্ত সাপেক্ষে নায়েব হেনা আক্তার কে চাকুরি হতে অব্যাহতি চায়,যাতে করে আমার মত আর কাউকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয়।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন,শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এবং জেলা প্রশাসক তদন্ত সাপেক্ষে নায়েবের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা না নিলে, ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সচিব,দুদক সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করব। জানা যায় পূর্বের কর্মস্থল উলাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব হেনা আক্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। খাজনা খারিজ ও নামজারির মতো সেবায় সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, খারিজ বা নামজারির প্রস্তাব নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে আবেদন গ্রহণে গড়িমসি করা হয়। উলাইল ইউনিয়নের আমডালা গ্রামের মৃত শেখ কাংগাইলার পুত্র খালেক জানান, অল্প পরিমাণ জমি খারিজ করতে গিয়ে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একই গ্রামের শফি মিস্ত্রির পরিবারের কাছ থেকেও সমপরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিখিল মন্ডল নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ৭ শতাংশ জমি খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
উলাইল গ্রামের মৃত ছামাদ সরদারের পুত্র মিনহাজ উদ্দিনের অভিযোগ, “মোটা অঙ্কের টাকা দিলে সমস্যাযুক্ত জমিরও খারিজ হয়, না দিলে হয় না।” তিনি দাবি করেন, ১৪ শতাংশ জমির খারিজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে আবেদন আটকে রেখে ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তার শ্বশুরের একটি খারিজের ক্ষেত্রেও ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী দিনমজুর ও কৃষকরা বলেন, কয়েক হাজার টাকা জোগাড় করতে তাদের মাসের পর মাস কষ্টে চলতে হয়। এভাবে ঘুষ নেওয়া বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হেনা আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

শিবালয়ে ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে তদন্তের দাবি

প্রকাশ : 03:13 pm, Wednesday, 11 March 2026

মানিকগঞ্জ জেলা শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়ন ভূমি সহকারি নায়েব হেনা আক্তারের ঘুষ দুর্নীতির অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।ঘুষ নিয়ে খারিজের প্রস্তাব, তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো তার যেন নেশা- পেশা সমানতালে চলছে।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন বাসাইল মৌজার ২৬ শতাংশ জমি খারিজের প্রস্তাব পাঠাতে ১৫০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নেন নায়েব হেনা আক্তার। আবার একই জমির তদন্ত রিপোর্ট পাঠাতে ৪০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে ইশারায় ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্টের জন্য ২ লক্ষ টাকা না দেওয়ায়, আর এস রেকর্ড সহ জমির দখলে থাকা সত্ত্বেও, মিথ্যা প্রতিবেদন রিপোর্ট দিয়ে আমাকে ব্যাপক হয়রানি করছেন, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তদন্ত সাপেক্ষে নায়েব হেনা আক্তার কে চাকুরি হতে অব্যাহতি চায়,যাতে করে আমার মত আর কাউকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয়।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন,শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এবং জেলা প্রশাসক তদন্ত সাপেক্ষে নায়েবের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা না নিলে, ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সচিব,দুদক সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করব। জানা যায় পূর্বের কর্মস্থল উলাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব হেনা আক্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। খাজনা খারিজ ও নামজারির মতো সেবায় সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, খারিজ বা নামজারির প্রস্তাব নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে আবেদন গ্রহণে গড়িমসি করা হয়। উলাইল ইউনিয়নের আমডালা গ্রামের মৃত শেখ কাংগাইলার পুত্র খালেক জানান, অল্প পরিমাণ জমি খারিজ করতে গিয়ে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একই গ্রামের শফি মিস্ত্রির পরিবারের কাছ থেকেও সমপরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিখিল মন্ডল নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ৭ শতাংশ জমি খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
উলাইল গ্রামের মৃত ছামাদ সরদারের পুত্র মিনহাজ উদ্দিনের অভিযোগ, “মোটা অঙ্কের টাকা দিলে সমস্যাযুক্ত জমিরও খারিজ হয়, না দিলে হয় না।” তিনি দাবি করেন, ১৪ শতাংশ জমির খারিজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে আবেদন আটকে রেখে ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তার শ্বশুরের একটি খারিজের ক্ষেত্রেও ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী দিনমজুর ও কৃষকরা বলেন, কয়েক হাজার টাকা জোগাড় করতে তাদের মাসের পর মাস কষ্টে চলতে হয়। এভাবে ঘুষ নেওয়া বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হেনা আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।