সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সকল ধরনের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে তাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান জ্বালানি তেলের মজুদ সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পাম্প থেকে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি গ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।এ পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু অসাধু চক্র জ্বালানি তেল অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি সীমান্তে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চেকপোস্টগুলোতে বিশেষ তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাফ নদীতে নৌ-টহল বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নৌযানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন ও নৌযানের ওপর কঠোর নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।এছাড়াও সীমান্ত এলাকার স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিজিবির বিওপিগুলো থেকে জনসচেতনতামূলক সভা পরিচালনা করা হচ্ছে।বিজিবি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সর্বদা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

টেকনাফ প্রতিনিধি 