Dhaka , Monday, 16 March 2026

কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বেড়েছে জনদুর্ভোগ

কুষ্টিয়ার উপজেলা গুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার দৌলতপুরে তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সেগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল-অকটেন নেই বললেই চলে; প্রতিটি পাম্পেই নোটিশ টানানো হয়েছে, ‘তৈল নাই, প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে’। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাসিব, রিপেল, মজনু, মিরাজ ও কামাল নামে পাঁচটি জ্বালানি এজেন্সির মধ্যে শুধু দৌলতপুর সেন্টার মোড়ের ‘মিরাজ’ এজেন্সিতে সীমিত পরিসরে নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি হলেও অন্যগুলো তেল না থাকার অজুহাতে কার্যত বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকলেও তা খোলা বাজারে না দিয়ে গোপনে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে; পাচারকালে বিজিবি প্রায় ২০০ লিটার তেল জব্দও করেছে।
সাগর ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষ জানায়, ৪ মার্চ খুলনার মেঘনা ডিপো থেকে ৯ হাজার লিটার ডিজেল ও ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন পাওয়ার পর ৮ মার্চ সন্ধ্যায় সব শেষ হয়ে গেছে; খলিশাকুন্ডির হাফিজ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরাও পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, সামান্য ডিজেল অল্প অল্প করে বিক্রি করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার ঠেকাতে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে, সন্দেহভাজন যানবাহনে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্টের তল্লাশি। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কিছু এজেন্সির কাছে তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে; প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানি সংকটে উপজেলার পরিবহন ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডে মারাত্মক প্রভাব পড়ায় দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফিলিং স্টেশন-মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বেড়েছে জনদুর্ভোগ

প্রকাশ : 03:59 pm, Thursday, 12 March 2026

কুষ্টিয়ার উপজেলা গুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার দৌলতপুরে তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সেগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল-অকটেন নেই বললেই চলে; প্রতিটি পাম্পেই নোটিশ টানানো হয়েছে, ‘তৈল নাই, প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে’। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাসিব, রিপেল, মজনু, মিরাজ ও কামাল নামে পাঁচটি জ্বালানি এজেন্সির মধ্যে শুধু দৌলতপুর সেন্টার মোড়ের ‘মিরাজ’ এজেন্সিতে সীমিত পরিসরে নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি হলেও অন্যগুলো তেল না থাকার অজুহাতে কার্যত বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকলেও তা খোলা বাজারে না দিয়ে গোপনে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে; পাচারকালে বিজিবি প্রায় ২০০ লিটার তেল জব্দও করেছে।
সাগর ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষ জানায়, ৪ মার্চ খুলনার মেঘনা ডিপো থেকে ৯ হাজার লিটার ডিজেল ও ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন পাওয়ার পর ৮ মার্চ সন্ধ্যায় সব শেষ হয়ে গেছে; খলিশাকুন্ডির হাফিজ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরাও পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, সামান্য ডিজেল অল্প অল্প করে বিক্রি করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার ঠেকাতে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে, সন্দেহভাজন যানবাহনে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্টের তল্লাশি। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কিছু এজেন্সির কাছে তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে; প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানি সংকটে উপজেলার পরিবহন ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডে মারাত্মক প্রভাব পড়ায় দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফিলিং স্টেশন-মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা।