Dhaka , Monday, 16 March 2026

ঘিওরে ‘জিম্মি’ করে পিআইও সিন্ডিকেটের অর্থ লুটপাট

মানিকগঞ্জের ঘিওরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা) প্রকল্প নিয়ে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সিরাজুল ইসলাম ও তার সহকারী ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিল উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে ‘জিম্মি’ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, অন ক্যামেরায় ভুক্তভোগীরা মুখ খুললে পরবর্তী প্রকল্প না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযুক্ত পিআইও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পয়লা ইউনিয়নের বাসুদেব বাড়ি পাকা রাস্তার বটতলা থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত ১, ২,৩ ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য শেলিনা বেগম জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ করার পর বিল উত্তোলনের সময় বিপত্তি বাঁধে। পিআইও মো. সিরাজুল ইসলাম ও অফিস সহকারী ইলিয়াস কাজের ত্রুটি দেখিয়ে বিল আটকে দেন। একপর্যায়ে তাকে জিম্মি করে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় একটি অংশ দাবি করা হয়। শেলিনা বেগমের দাবি, ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে প্রথমে তাকে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অনুরোধ করলে আর মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি বিশাল অঙ্কের টাকা পিআইও এবং সহকারি আত্মসাৎ করেন, যার ফলে আমি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছি ।
ঘিওরে পিআইও অফিসের এই অনিয়ম এখন ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে দাবি করেছেন একাধিক ইউপি সদস্য। সিংজুরী ইউনিয়নের সদস্য আক্কাস আলী অভিযোগ করেন, ২ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হলে প্রায় অর্ধেক টাকাই পিআইও অফিসে জমা দিতে হয়।
অন্যদিকে বড়টিয়া ইউনিয়নের খোরশেদ আলম জানান, তার বাড়ির পাশের একটি প্রকল্পের ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দের বিষয়ে তাকে অন্ধকার রাখা হয়েছে এবং উল্টো তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
পিআইওর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা দুর্নীতির বিষয়ে অফিস সহকারী ইলিয়াস কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যায়।
আর পিআইও মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন,’যারা অভিযোগ করেছে বলছেন, তারাই আবার অফিসে এসে বলেছে তারা কারো সঙ্গে কথা বলেনি ও অভিযোগও করেনি।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, মেম্বাররা ক্যামেরার সামনে অভিযোগ করলেও পিআইও তা অস্বীকার করে মূলত ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাইছেন। অভিযোগকারীদের চলতি বিল আটকে রাখা এবং ভবিষ্যতে কালো তালিকাভুক্ত করার ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা এভাবে কর্মকর্তাদের পকেটে চলে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহলের মতে, পিআইও এবং তার সহকারীর এই সিন্ডিকেট উপজেলার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। অবিলম্বে দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

ঘিওরে ‘জিম্মি’ করে পিআইও সিন্ডিকেটের অর্থ লুটপাট

প্রকাশ : 04:05 pm, Thursday, 12 March 2026

মানিকগঞ্জের ঘিওরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা) প্রকল্প নিয়ে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সিরাজুল ইসলাম ও তার সহকারী ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিল উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে ‘জিম্মি’ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, অন ক্যামেরায় ভুক্তভোগীরা মুখ খুললে পরবর্তী প্রকল্প না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযুক্ত পিআইও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পয়লা ইউনিয়নের বাসুদেব বাড়ি পাকা রাস্তার বটতলা থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত ১, ২,৩ ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য শেলিনা বেগম জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ করার পর বিল উত্তোলনের সময় বিপত্তি বাঁধে। পিআইও মো. সিরাজুল ইসলাম ও অফিস সহকারী ইলিয়াস কাজের ত্রুটি দেখিয়ে বিল আটকে দেন। একপর্যায়ে তাকে জিম্মি করে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় একটি অংশ দাবি করা হয়। শেলিনা বেগমের দাবি, ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে প্রথমে তাকে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অনুরোধ করলে আর মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি বিশাল অঙ্কের টাকা পিআইও এবং সহকারি আত্মসাৎ করেন, যার ফলে আমি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছি ।
ঘিওরে পিআইও অফিসের এই অনিয়ম এখন ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে দাবি করেছেন একাধিক ইউপি সদস্য। সিংজুরী ইউনিয়নের সদস্য আক্কাস আলী অভিযোগ করেন, ২ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হলে প্রায় অর্ধেক টাকাই পিআইও অফিসে জমা দিতে হয়।
অন্যদিকে বড়টিয়া ইউনিয়নের খোরশেদ আলম জানান, তার বাড়ির পাশের একটি প্রকল্পের ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দের বিষয়ে তাকে অন্ধকার রাখা হয়েছে এবং উল্টো তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
পিআইওর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা দুর্নীতির বিষয়ে অফিস সহকারী ইলিয়াস কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যায়।
আর পিআইও মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন,’যারা অভিযোগ করেছে বলছেন, তারাই আবার অফিসে এসে বলেছে তারা কারো সঙ্গে কথা বলেনি ও অভিযোগও করেনি।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, মেম্বাররা ক্যামেরার সামনে অভিযোগ করলেও পিআইও তা অস্বীকার করে মূলত ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাইছেন। অভিযোগকারীদের চলতি বিল আটকে রাখা এবং ভবিষ্যতে কালো তালিকাভুক্ত করার ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা এভাবে কর্মকর্তাদের পকেটে চলে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহলের মতে, পিআইও এবং তার সহকারীর এই সিন্ডিকেট উপজেলার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। অবিলম্বে দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।