Dhaka , Monday, 16 March 2026

মনোহরগঞ্জে চিহ্নিত দুর্ধর্ষ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় অভিযোগের ৭ ঘণ্টার মধ্যে ইলিয়াস হোসেন এবং সালাহ উদ্দিন নামে চিহ্নিত দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তারসহ মালামাল উদ্ধার করেছে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ। জানা যায় ৫০ লাখ টাকার চাঁদার দাবিতে গত রোববার রাতে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের ভাউপুর গ্রামের প্রবাসী নাসির উদ্দীন ও তার শিশু সন্তানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় এলাকার চিহ্নিত ডাকাতরা। পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় সোমবার বিকেলে নাসির উদ্দীন বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর দ্রুত সময়ে আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম।
মামলা সূত্রে জানা যায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে নাসির বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ী একই এলাকার কিসমত গ্রামে যাওয়ার পথে লক্ষনপুর বাজার হতে অজ্ঞাতনামা ২ জন যাত্রীসহ আসা একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা উঠেন। অটোরিকশাটি ভাউপুর গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ীর সামনে গেলে মোটরসাইকেলে আসা ভাউপুর গ্রামের সৈয়দ আহমেদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, রুহুল আমিনের ছেলে ইলিয়াস নামে দুজন গতিরোধ করে নাসিরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে অটোরিকশাকে বিদায় করে দেয়। অটোরিকশা চলে যাওয়ার পর সাদ্দাম এবং ইলিয়াস, নাসিরের গলায় ছুরি ধরে ভাউপুর দক্ষিন পাড়া নুরানী তালিমুল মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে এলোপাতাড়ী মারধর করতে থাকে এবং তার কাছে কি পরিমান টাকা পয়সা আছে তা জানার চেষ্টা করে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নাসির তার টাকা পয়শা শ্বশুর বাড়িতে আছে বললে রাত পৌনে ১১টার দিকে নাসিরের শ্বশুর হাজী হাশেমের বাড়ীতে নিয়ে যায়। এসময় তাদের সাথে যোগ দেয় একই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে শাহ আলম প্রকাশ মোঃ সালাউদ্দিন (৩২), রোয়াব মিয়ার ছেলে মোঃ রাসেল (৩৫), মৃত ছাদেকের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)। সেখানে যাওয়া পর সবাই মিলে নাসিরের শ্বশুর বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে ভিম্মি করে নাসিরের এক বছর বয়সী ছেলে নাফিসের গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে আলমিরায় থাকা নগদ ৫ লাখ ৭০ হাজার-টাকা এবং তার স্ত্রী ব্যবহৃত প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে প্রভাবশালী একটি মহল। পরদিন গ্রামবাসী একজোট হয়ে সন্ত্রাসীদের বিচার দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেন।
পরে সোমবার নাসির বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরই অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুট করে নেয়া চার ভরি স্বর্ণসহ নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এবিষয়ে নাসির উদ্দীনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন তার পরিবার দেশে থাকেন এর বেশিকিছু বলতে চাননি। এসময় তাকে বেশ আতঙ্কিত থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় আসামীরা সবাই যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমসহ সরসপুর ইউনিয়নকে অপরাধের অভয়ারণ্য পরিণত করেছে তারা। নাম প্রকাশ না করে অনেকে বলেন আসামিরা সবাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী, এদের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সবাই। তারা বলেন প্রবাসী নাসির উদ্দীন দেশে আসার পর আসামীরা তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম বলেন গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ড চেয়ে কোর্টে চালান করা হয়েছে। বাকী আসামিদের ধরতে চেষ্টা করা হচ্ছে। অপরাধীকে কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবেনা।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

মনোহরগঞ্জে চিহ্নিত দুর্ধর্ষ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার

প্রকাশ : 04:14 pm, Thursday, 12 March 2026

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় অভিযোগের ৭ ঘণ্টার মধ্যে ইলিয়াস হোসেন এবং সালাহ উদ্দিন নামে চিহ্নিত দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তারসহ মালামাল উদ্ধার করেছে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ। জানা যায় ৫০ লাখ টাকার চাঁদার দাবিতে গত রোববার রাতে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের ভাউপুর গ্রামের প্রবাসী নাসির উদ্দীন ও তার শিশু সন্তানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় এলাকার চিহ্নিত ডাকাতরা। পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় সোমবার বিকেলে নাসির উদ্দীন বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর দ্রুত সময়ে আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম।
মামলা সূত্রে জানা যায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে নাসির বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ী একই এলাকার কিসমত গ্রামে যাওয়ার পথে লক্ষনপুর বাজার হতে অজ্ঞাতনামা ২ জন যাত্রীসহ আসা একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা উঠেন। অটোরিকশাটি ভাউপুর গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ীর সামনে গেলে মোটরসাইকেলে আসা ভাউপুর গ্রামের সৈয়দ আহমেদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, রুহুল আমিনের ছেলে ইলিয়াস নামে দুজন গতিরোধ করে নাসিরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে অটোরিকশাকে বিদায় করে দেয়। অটোরিকশা চলে যাওয়ার পর সাদ্দাম এবং ইলিয়াস, নাসিরের গলায় ছুরি ধরে ভাউপুর দক্ষিন পাড়া নুরানী তালিমুল মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে এলোপাতাড়ী মারধর করতে থাকে এবং তার কাছে কি পরিমান টাকা পয়সা আছে তা জানার চেষ্টা করে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নাসির তার টাকা পয়শা শ্বশুর বাড়িতে আছে বললে রাত পৌনে ১১টার দিকে নাসিরের শ্বশুর হাজী হাশেমের বাড়ীতে নিয়ে যায়। এসময় তাদের সাথে যোগ দেয় একই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে শাহ আলম প্রকাশ মোঃ সালাউদ্দিন (৩২), রোয়াব মিয়ার ছেলে মোঃ রাসেল (৩৫), মৃত ছাদেকের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)। সেখানে যাওয়া পর সবাই মিলে নাসিরের শ্বশুর বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে ভিম্মি করে নাসিরের এক বছর বয়সী ছেলে নাফিসের গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে আলমিরায় থাকা নগদ ৫ লাখ ৭০ হাজার-টাকা এবং তার স্ত্রী ব্যবহৃত প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে প্রভাবশালী একটি মহল। পরদিন গ্রামবাসী একজোট হয়ে সন্ত্রাসীদের বিচার দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেন।
পরে সোমবার নাসির বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরই অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুট করে নেয়া চার ভরি স্বর্ণসহ নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এবিষয়ে নাসির উদ্দীনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন তার পরিবার দেশে থাকেন এর বেশিকিছু বলতে চাননি। এসময় তাকে বেশ আতঙ্কিত থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় আসামীরা সবাই যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমসহ সরসপুর ইউনিয়নকে অপরাধের অভয়ারণ্য পরিণত করেছে তারা। নাম প্রকাশ না করে অনেকে বলেন আসামিরা সবাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী, এদের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সবাই। তারা বলেন প্রবাসী নাসির উদ্দীন দেশে আসার পর আসামীরা তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম বলেন গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ড চেয়ে কোর্টে চালান করা হয়েছে। বাকী আসামিদের ধরতে চেষ্টা করা হচ্ছে। অপরাধীকে কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবেনা।