Dhaka , Monday, 16 March 2026

ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে ঈদ মার্কেট

জয়পুরহাটে ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে ঈদ মার্কেটগুলো। ঈদ-উল-ফিতর আসন্ন, নতুন সাজে সেজেছে মার্কেটগুলো । উত্তরাঞ্চলের সীমান্তের কোলঘেঁষা ছোট্ট জেলা শহরের মার্কেটগুলো ঈদের কেনাকাটায় এখন যেন বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা।
জেলার নিউ মার্কেট, লেডিস মার্কেট,পূর্ব বাজার .বিপনী বিতান, বিগবাজার ও শপিংমল এখন যেন ক্রেতা সাধরনের পদচারনায় মুখোরিত। এবার দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি পাকিস্তানি কাপড়ের চাহিদা বেশ বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
সরেজমিন বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমযানের শুরুতে বেচা-বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও ১০ রোজার পর থেকে মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সমাগম বেড়ে যায় এবং কেনাকাটাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন-রাতে সুবিধামত সময়ে লোকজন যাচ্ছেন মার্কেটে, বিপনী বিতান ও শপিংমলে। ঈদ মার্কেটের কারণে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের পদচারণায় একেবারে জমজমাট হয়ে উঠেছে নিউ মার্কেট এবং পূর্ব বাজারের বড় বড় কাপড়ের দোকান, লেডিস মার্কেট ও ফ্যাশান শো, শপিংমলসহ অন্যান্য কসমেটিকস, জুতা ও সাধারণ কাপড়ের দোকানগুলো। আবার বেশ কিছু জুতার দোকানে দেওয়া হয়েছে ৫০ ভাগ মূল্য ছাড় । নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কিনছেন তাদের পছন্দসই সামগ্রী।
প্রসাধনী ও জুতোর দোকানেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড়ে শহরে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। কেনা-বেচা চলে রাত দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত।
শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানান ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) জামিরুল ইসলাম।
জেলা শহরের নিউ মার্কেট, সদর রাস্তা, পূর্ব বাজার কাপড় পট্টি, এনামুল হক মার্কেট, মীনা বাজার ,বিগবাজার, মৌসুমী, এবং শাহাজান আলী মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানপাট ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহুর্তের ঈদ কেনাকাটার দাপট সামলাতেই অস্থির বিক্রেতারা বাড়তি কথা বলার সময় পাচ্ছেন না।
নিউ মার্কেটের ফাতেমা ক্লথ ষ্টোর, ফারুক ক্লথ ষ্টোর এবং পূর্ব বাজারের সাজ কালেকশন , গার্লস ভিলা, করিম গেঞ্জি স্টোর ও বাবু গামের্ন্টসে ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
দোকানীরা জানান, রোজা শুরুর প্রথম দিকে বেচা-বিক্রি কম থাকলেও ১০ রোজার পর থেকে বেচাকেনা চলছে একেবারে পুরোদমে।
পূর্ব বাজার বাবু গার্মেন্টসের মালিক মাসুদ পারভেজ বাবু বলেন, ‘ছোট শিশুদের জন্যও রয়েছে বেবী সেট ও গেঞ্জি সেট, কিশোর যুবকদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন মাপের গামের্ন্টস পোশাক শিশুদের জন্য বিক্রি হচ্ছে ১২০০-সাড়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাপড়, সেলাই, মজুরী ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গতবারের তুলনায় এবার প্রকার ভেদে ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’
রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম জানান, ঈদের অনেক কেনাকাটা হয়েছে এর মধ্যে ১৫০০ টাকা দিয়ে পাঞ্জাবী কিনে খুব খুশি তিনি।
পূর্ব বাজারের দ্বিতীয় তলায় লেডিস মার্কেটের গার্লস ভিলা ও সাজ লেডিস কালেকশনের মালিক নাসরিন আক্তার জানান, ‘ক্রেতাদের নিকট এবার জনপ্রিয় আইটেম হচ্ছে পাকিস্তানি থ্রি-পিস ঘারারা। এছাড়াও গ্রাউন স্কাট, জর্জেট নিম্নে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে উপরে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত পছন্দসই কাপড় কিনছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে কেনাকাটা করছেন। তবে এবার পাইকারী বাজারে কাপড়ের দাম বেম কিচুটা বেশি।
ক্রেতারা নিউ মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলো থেকে কেনাকাটা করছেন তাদের সামর্থ অনুযায়ী। হাউজিং এস্টেট এলাকার শিশু সামিউল ইসলাম জানায়, এবারের ঈদে’ থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট ও স্যান্ডেল কেনেছেজন তিনি ।’
সদরের জানিয়ার বাগান মহল্লার খোরশেদ আলম ১৫ হাজার টাকার মধ্যে দুটি পাঞ্জাবী, দুটি টাউজার ও দুই জোড়া জুতা কিনেছেন। দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি।
ঈদ এলে অতিরিক্ত ইনকামের আশায় জেলার অনেক দর্জি কারিগর ঢাকাতে চলে যায় বলে মন্তব্য করে ফেমাস টেইলার্সের মালিক মকবুল হোসেন আরও বলেন, ‘সেলাইয়ের জন্য শার্ট প্রতি ৫৫০-৬০০ টাকা, প্যান্ট ও পাঞ্জাবী সেলাই প্রতিটি ৭০০-৮০০ টাকা মজুরী নেওয়া হচ্ছে।’
পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে জেলার আইন-শৃংখলা বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মীনা মাহমুদা বলেন, ‘জেলার সার্বিক আইন-শৃংখলা ভালো। তারপরও ঈদের কেনাকাটা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।’
মার্কেটগুলোতে সার্বিক আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তামূলক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন পূর্ব বাজার কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত

ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে ঈদ মার্কেট

প্রকাশ : 14 Hours Ago

জয়পুরহাটে ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে ঈদ মার্কেটগুলো। ঈদ-উল-ফিতর আসন্ন, নতুন সাজে সেজেছে মার্কেটগুলো । উত্তরাঞ্চলের সীমান্তের কোলঘেঁষা ছোট্ট জেলা শহরের মার্কেটগুলো ঈদের কেনাকাটায় এখন যেন বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা।
জেলার নিউ মার্কেট, লেডিস মার্কেট,পূর্ব বাজার .বিপনী বিতান, বিগবাজার ও শপিংমল এখন যেন ক্রেতা সাধরনের পদচারনায় মুখোরিত। এবার দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি পাকিস্তানি কাপড়ের চাহিদা বেশ বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
সরেজমিন বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমযানের শুরুতে বেচা-বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও ১০ রোজার পর থেকে মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সমাগম বেড়ে যায় এবং কেনাকাটাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন-রাতে সুবিধামত সময়ে লোকজন যাচ্ছেন মার্কেটে, বিপনী বিতান ও শপিংমলে। ঈদ মার্কেটের কারণে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের পদচারণায় একেবারে জমজমাট হয়ে উঠেছে নিউ মার্কেট এবং পূর্ব বাজারের বড় বড় কাপড়ের দোকান, লেডিস মার্কেট ও ফ্যাশান শো, শপিংমলসহ অন্যান্য কসমেটিকস, জুতা ও সাধারণ কাপড়ের দোকানগুলো। আবার বেশ কিছু জুতার দোকানে দেওয়া হয়েছে ৫০ ভাগ মূল্য ছাড় । নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কিনছেন তাদের পছন্দসই সামগ্রী।
প্রসাধনী ও জুতোর দোকানেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড়ে শহরে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। কেনা-বেচা চলে রাত দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত।
শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানান ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) জামিরুল ইসলাম।
জেলা শহরের নিউ মার্কেট, সদর রাস্তা, পূর্ব বাজার কাপড় পট্টি, এনামুল হক মার্কেট, মীনা বাজার ,বিগবাজার, মৌসুমী, এবং শাহাজান আলী মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানপাট ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহুর্তের ঈদ কেনাকাটার দাপট সামলাতেই অস্থির বিক্রেতারা বাড়তি কথা বলার সময় পাচ্ছেন না।
নিউ মার্কেটের ফাতেমা ক্লথ ষ্টোর, ফারুক ক্লথ ষ্টোর এবং পূর্ব বাজারের সাজ কালেকশন , গার্লস ভিলা, করিম গেঞ্জি স্টোর ও বাবু গামের্ন্টসে ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
দোকানীরা জানান, রোজা শুরুর প্রথম দিকে বেচা-বিক্রি কম থাকলেও ১০ রোজার পর থেকে বেচাকেনা চলছে একেবারে পুরোদমে।
পূর্ব বাজার বাবু গার্মেন্টসের মালিক মাসুদ পারভেজ বাবু বলেন, ‘ছোট শিশুদের জন্যও রয়েছে বেবী সেট ও গেঞ্জি সেট, কিশোর যুবকদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন মাপের গামের্ন্টস পোশাক শিশুদের জন্য বিক্রি হচ্ছে ১২০০-সাড়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাপড়, সেলাই, মজুরী ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গতবারের তুলনায় এবার প্রকার ভেদে ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’
রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম জানান, ঈদের অনেক কেনাকাটা হয়েছে এর মধ্যে ১৫০০ টাকা দিয়ে পাঞ্জাবী কিনে খুব খুশি তিনি।
পূর্ব বাজারের দ্বিতীয় তলায় লেডিস মার্কেটের গার্লস ভিলা ও সাজ লেডিস কালেকশনের মালিক নাসরিন আক্তার জানান, ‘ক্রেতাদের নিকট এবার জনপ্রিয় আইটেম হচ্ছে পাকিস্তানি থ্রি-পিস ঘারারা। এছাড়াও গ্রাউন স্কাট, জর্জেট নিম্নে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে উপরে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত পছন্দসই কাপড় কিনছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে কেনাকাটা করছেন। তবে এবার পাইকারী বাজারে কাপড়ের দাম বেম কিচুটা বেশি।
ক্রেতারা নিউ মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলো থেকে কেনাকাটা করছেন তাদের সামর্থ অনুযায়ী। হাউজিং এস্টেট এলাকার শিশু সামিউল ইসলাম জানায়, এবারের ঈদে’ থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট ও স্যান্ডেল কেনেছেজন তিনি ।’
সদরের জানিয়ার বাগান মহল্লার খোরশেদ আলম ১৫ হাজার টাকার মধ্যে দুটি পাঞ্জাবী, দুটি টাউজার ও দুই জোড়া জুতা কিনেছেন। দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি।
ঈদ এলে অতিরিক্ত ইনকামের আশায় জেলার অনেক দর্জি কারিগর ঢাকাতে চলে যায় বলে মন্তব্য করে ফেমাস টেইলার্সের মালিক মকবুল হোসেন আরও বলেন, ‘সেলাইয়ের জন্য শার্ট প্রতি ৫৫০-৬০০ টাকা, প্যান্ট ও পাঞ্জাবী সেলাই প্রতিটি ৭০০-৮০০ টাকা মজুরী নেওয়া হচ্ছে।’
পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে জেলার আইন-শৃংখলা বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মীনা মাহমুদা বলেন, ‘জেলার সার্বিক আইন-শৃংখলা ভালো। তারপরও ঈদের কেনাকাটা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।’
মার্কেটগুলোতে সার্বিক আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তামূলক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন পূর্ব বাজার কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু।