সরেজমিন নিউজ

এনবিআরের অবহেলায় বন্ধ আছে গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌ বন্দরের কার্যক্রম



এনবিআরের অবহেলায় বন্ধ আছে গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌ বন্দরের কার্যক্রম

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌ বন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। দীর্ঘ ৬ দশক পর গত ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই নৌ বন্দরে আবারো চালু হয় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। মাত্র ১০ দিন চালু থাকার পর পদ্মা নদীর নব্যতা সংকটে বন্ধ হয়ে যায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে সুলতানগঞ্জ থেকে মায়া ও গোদাগাড়ী থেকে লালগোলা নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই নৌপথে সবচেয়ে বেশি আসে পাথর, মসলা ও বিভিন্ন খাদ্য পণ্য।
২০২৫ সালের ১ আগষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ পোর্ট অব কল পরিদর্শন করেন। অবকাঠামো উন্নয়ন করে দ্রুত বন্দরটি চালুর নির্দেশনা দেন। কিন্তু প্রায় বছর পার হতে চললেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
আমদানি রপ্তানি কারকদের অভিযোগ, এখন নদী ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করার পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা ও এনবিআরের গা ছাড়া ভাবের কারণে ঝুলে আছে এই বন্দরের কার্যক্রম।
এ ঘটনায় পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, নৌ বন্দরে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে। আমার ৩ টি পণ্যবাহী জাহাজ সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে মাসের পর মাস পরে আছে। প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকা করে তাদের ভাড়া বাবদ খরচ গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত বন্দরটি চালু না হলে ব্যবসায়ীরা আরও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সুলতানুল ইসলাম নামের আরেক আমদানিকারক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দরের পানামা বন্দর মনে করে এই বন্দরটি চালু হলে তাদের ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে। এটি তাদের ভুল ধারণা। যার যেদিক দিয়ে সুবিধা হবে সেদিক দিয়ে পন্য আনা নেয়া করবেন। সরকার দুই বন্দর থেকে রাজস্ব পাবেন। এজন্য সরকারের উচিত দ্রুত এখানে কাস্টমস বসিয়ে বানিজ্য শুরু করা। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বন্দরটি চালু হলে পণ্য আমদানিতে ২০-২৫ শতাংশ ব্যয় কমবে। এছাড়া অনেক সময় কম লাগবে পন্য আনা নেয়ায়। বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই নৌ বন্দরকে ঘিরে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ, কে, এম আরিফ উদ্দিন বলেন, কর্মকর্তা বলছেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এনবিআর কেন এই নৌ বন্দরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে না তা উদ্বেগজনক। নৌ বন্দর চালু না করার পেছনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন স্বার্থ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার। তা না হলে এতদিনে জমজমাট থাকতো এই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরটি।
এনবিআর এর এমন উদাসীনতা নিয়ে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, এই নৌ বন্দর চালু হলে সরকার যেমন রাজস্ব আদায় করবে, তেমনি ব্যবসায়িক জোন হিসেবে গড়ে উঠবে এই অঞ্চল। এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল হবে এই নৌ বন্দরকে ঘিরে। তাই এনবিআর কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বন্দরটি চালু করা।
সুলতানগঞ্জ বন্দর নিয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার রাজশাহীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছে প্রতিবেদক। তাই তার বক্তব্য ও মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরে এব্যাপারে কথা হয় ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু’র সাথে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। সরকার প্রধান চাইলে দ্রুতই চালু করা হবে এই বন্দরে দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম।

 

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এনবিআরের অবহেলায় বন্ধ আছে গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌ বন্দরের কার্যক্রম

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌ বন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। দীর্ঘ ৬ দশক পর গত ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই নৌ বন্দরে আবারো চালু হয় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। মাত্র ১০ দিন চালু থাকার পর পদ্মা নদীর নব্যতা সংকটে বন্ধ হয়ে যায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে সুলতানগঞ্জ থেকে মায়া ও গোদাগাড়ী থেকে লালগোলা নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই নৌপথে সবচেয়ে বেশি আসে পাথর, মসলা ও বিভিন্ন খাদ্য পণ্য।
২০২৫ সালের ১ আগষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ পোর্ট অব কল পরিদর্শন করেন। অবকাঠামো উন্নয়ন করে দ্রুত বন্দরটি চালুর নির্দেশনা দেন। কিন্তু প্রায় বছর পার হতে চললেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
আমদানি রপ্তানি কারকদের অভিযোগ, এখন নদী ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করার পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা ও এনবিআরের গা ছাড়া ভাবের কারণে ঝুলে আছে এই বন্দরের কার্যক্রম।
এ ঘটনায় পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, নৌ বন্দরে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে। আমার ৩ টি পণ্যবাহী জাহাজ সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে মাসের পর মাস পরে আছে। প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকা করে তাদের ভাড়া বাবদ খরচ গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত বন্দরটি চালু না হলে ব্যবসায়ীরা আরও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সুলতানুল ইসলাম নামের আরেক আমদানিকারক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দরের পানামা বন্দর মনে করে এই বন্দরটি চালু হলে তাদের ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে। এটি তাদের ভুল ধারণা। যার যেদিক দিয়ে সুবিধা হবে সেদিক দিয়ে পন্য আনা নেয়া করবেন। সরকার দুই বন্দর থেকে রাজস্ব পাবেন। এজন্য সরকারের উচিত দ্রুত এখানে কাস্টমস বসিয়ে বানিজ্য শুরু করা। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বন্দরটি চালু হলে পণ্য আমদানিতে ২০-২৫ শতাংশ ব্যয় কমবে। এছাড়া অনেক সময় কম লাগবে পন্য আনা নেয়ায়। বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই নৌ বন্দরকে ঘিরে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ, কে, এম আরিফ উদ্দিন বলেন, কর্মকর্তা বলছেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এনবিআর কেন এই নৌ বন্দরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে না তা উদ্বেগজনক। নৌ বন্দর চালু না করার পেছনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন স্বার্থ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার। তা না হলে এতদিনে জমজমাট থাকতো এই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরটি।
এনবিআর এর এমন উদাসীনতা নিয়ে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, এই নৌ বন্দর চালু হলে সরকার যেমন রাজস্ব আদায় করবে, তেমনি ব্যবসায়িক জোন হিসেবে গড়ে উঠবে এই অঞ্চল। এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল হবে এই নৌ বন্দরকে ঘিরে। তাই এনবিআর কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বন্দরটি চালু করা।
সুলতানগঞ্জ বন্দর নিয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার রাজশাহীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছে প্রতিবেদক। তাই তার বক্তব্য ও মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরে এব্যাপারে কথা হয় ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু’র সাথে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। সরকার প্রধান চাইলে দ্রুতই চালু করা হবে এই বন্দরে দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম।

 


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত