চীনের তিব্বত অঞ্চলে নদীর ওপর ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ জমে নতুন একটি ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে চীনের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর গিরিওং পোর্ট এলাকাও সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি।
এর আগে একই নদী এলাকায় আকস্মিক বন্যার পর একটি ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছিল। সেই হ্রদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলেও পরে সেটির পানি স্বাভাবিকভাবে কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু নতুন করে নদীর ভাটির দিকে ভূমিধসের ঘটনায় আরেকটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার পর্যবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রোন নদীর নিচের দিকে নতুন ভূমিধস শনাক্ত করে। পরে দেখা যায়, ভূমিধস থেকে নেমে আসা মাটি, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে দিয়েছে।
নদীর পানি বাধার পেছনে জমতে শুরু করায় সেখানে নতুন একটি ব্যারিয়ার লেকের সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণত নদীর ওপর ভূমিধসের মাটি, পাথর বা ধ্বংসাবশেষ জমে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হলে তার পেছনে পানি আটকে যে হ্রদ সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যারিয়ার লেক বলা হয়। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের দিকের এলাকায় হঠাৎ বড় ধরনের বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভূমিধসটি প্রকপিউ জিয়াং জাঙবু নদীতে আগের ব্যারিয়ার লেকের অবস্থান থেকে প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটির দিকে ঘটেছে।
নতুন বাধার কারণে নদীর পানি কতটা জমছে এবং প্রাকৃতিক বাঁধটি কতটা স্থিতিশীল, তা এখন গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকলে অথবা প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেলে ভাটির দিকে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের একটি দল মোতায়েন করেছে। তারা নতুন ব্যারিয়ার লেক, নদীর পানির প্রবাহ এবং ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় গিরিওং পোর্ট এলাকার আশপাশে দায়িত্ব পালনরত উদ্ধারকর্মীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গিরিওং পোর্ট চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় নতুন এই পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, যোগাযোগ ও সীমান্তবর্তী কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ এখন বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নতুন ব্যারিয়ার লেকটি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে পানির চাপ বাড়ছে কি না এবং তা ভেঙে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে কি না, সেটিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এর আগে একই এলাকায় ব্যারিয়ার লেক তৈরির পর সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। নতুন করে আরেকটি ভূমিধস ও প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হওয়ায় তিব্বতের ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন আবারও নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
চীনের তিব্বত অঞ্চলে নদীর ওপর ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ জমে নতুন একটি ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে চীনের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর গিরিওং পোর্ট এলাকাও সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি।
এর আগে একই নদী এলাকায় আকস্মিক বন্যার পর একটি ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছিল। সেই হ্রদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলেও পরে সেটির পানি স্বাভাবিকভাবে কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু নতুন করে নদীর ভাটির দিকে ভূমিধসের ঘটনায় আরেকটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার পর্যবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রোন নদীর নিচের দিকে নতুন ভূমিধস শনাক্ত করে। পরে দেখা যায়, ভূমিধস থেকে নেমে আসা মাটি, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে দিয়েছে।
নদীর পানি বাধার পেছনে জমতে শুরু করায় সেখানে নতুন একটি ব্যারিয়ার লেকের সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণত নদীর ওপর ভূমিধসের মাটি, পাথর বা ধ্বংসাবশেষ জমে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হলে তার পেছনে পানি আটকে যে হ্রদ সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যারিয়ার লেক বলা হয়। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের দিকের এলাকায় হঠাৎ বড় ধরনের বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভূমিধসটি প্রকপিউ জিয়াং জাঙবু নদীতে আগের ব্যারিয়ার লেকের অবস্থান থেকে প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটির দিকে ঘটেছে।
নতুন বাধার কারণে নদীর পানি কতটা জমছে এবং প্রাকৃতিক বাঁধটি কতটা স্থিতিশীল, তা এখন গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকলে অথবা প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেলে ভাটির দিকে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের একটি দল মোতায়েন করেছে। তারা নতুন ব্যারিয়ার লেক, নদীর পানির প্রবাহ এবং ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় গিরিওং পোর্ট এলাকার আশপাশে দায়িত্ব পালনরত উদ্ধারকর্মীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গিরিওং পোর্ট চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় নতুন এই পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, যোগাযোগ ও সীমান্তবর্তী কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ এখন বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নতুন ব্যারিয়ার লেকটি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে পানির চাপ বাড়ছে কি না এবং তা ভেঙে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে কি না, সেটিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এর আগে একই এলাকায় ব্যারিয়ার লেক তৈরির পর সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। নতুন করে আরেকটি ভূমিধস ও প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হওয়ায় তিব্বতের ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন আবারও নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন